মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণ
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালে (রুদ্ধদ্বার) সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের আনা অষ্টম সাক্ষী জবানবন্দি দেন। এর পর মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। জবানবন্দি গ্রহণের পরে সাক্ষীকে আসামিপক্ষ জেরা করে।
ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমের সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল না। ক্যামেরা ট্রায়ালে প্রদত্ত সাক্ষ্যের বিষয়বস্তু, সাক্ষীর পরিচয় প্রকাশে ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইনুর বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের সাক্ষী গ্রহণ শুরু হয়। এর আগে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিনই শুনানি শেষে ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
জানা গেছে, ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণে ২০ জন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এছাড়া নথি হিসেবে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ইনু গ্রেফতার হন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইনু। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।
এফএইচ/এমএমকে