গৃহকর্মী নির্যাতন

সেই ঘটনার ভয় এখনো স্বপ্নে তাড়া করে শিশুটিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৩ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২৬
বাবার সঙ্গে নির্যাতনের শিকার শিশুটি/ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমানের বাসায় নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী শিশুটিকে সেই ঘটনার ভয় এখনো স্বপ্নে তাড়া করে।

এমনটাই জানিয়েছেন তার বাবা গোলাম মোস্তফা। তিনি সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে জানান, মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের ঘটনায় কোনো সমঝোতায় যাবেন না। তারা বিচার চান।

আজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক মো. শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে শুনানি শেষে শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শিশুটির বাবা মোস্তফা। তিনি বলেন, মেয়ে এখনো সেই ভয়াবহ নির্যাতনের কথা ভুলতে পারেনি। স্বপ্নেও সেই ঘটনা দেখে। মাঝেমধ্যে ঘুম ভেঙে যায় এবং তখন সে নির্যাতনের কথা বলতে থাকে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শিশুটির পুরোপুরি সুস্থ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। এখনো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হওয়ার কথা জানায় সে।

মোস্তফা বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা কোনো সমঝোতা করবো না। আমরা এই নির্যাতনের বিচার চাই।’

আদালতের আদেশের বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার জানান, আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১১ বছর বয়সী শিশুটি অভিযুক্তের বাসায় ২০২৫ সালের জুন থেকে কাজ করছিল। গত ৩১ জানুয়ারি শিশুটিকে তার বাবা হোটেল কর্মচারী মোস্তফার কাছে ফেরত দিলে তিনি মেয়ের শরীরে মারধর ও গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার চিহ্ন দেখতে পান। পরে শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় মোস্তফা উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। এতে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথি এবং অন্য দুই গৃহকর্মীকে আসামি করা হয়।

এমডিএএ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।