ঘুমের জন্য ইউটিউবে স্লিপ মিউজিক শোনা কতটা নিরাপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ১৩ মার্চ ২০২৬

বর্তমান সময়ে ঘুম না হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানসিক চাপ, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, দুশ্চিন্তা এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে অনেকেরই রাতে সহজে ঘুম আসে না। অথচ পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, ঘুম এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা শরীরকে বিশ্রাম দেয় এবং পরদিনের কাজের জন্য প্রস্তুত করে। কিন্তু যখন ঘুম কমে যায় বা ঠিকমতো হয় না, তখন শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং নানা শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

এই কারণেই অনেক মানুষ রাতে বিছানায় শুয়ে স্মার্টফোনে স্লিপ মিউজিক চালিয়ে দেন। ধীরগতির কোমল সুরের গান বা সঙ্গীত শুনতে শুনতে অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুম চলে আসে। গবেষণাও বলছে, সঙ্গীত মানুষের স্নায়ুকে শিথিল করতে সাহায্য করে। ধীরগতির মিউজিক শরীরকে আরাম দেয় এবং মস্তিষ্ককে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করে। বিশেষ করে পছন্দের গান শুনলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। ফলে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা কমে এবং ঘুম আসা সহজ হয়।

তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে-মোবাইলে স্লিপ মিউজিক শুনে ঘুমানো কি সত্যিই ভালো? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঙ্গীত শুনে ঘুমানোর অভ্যাস খারাপ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো সেই সঙ্গীত যদি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শোনা হয়।

ঘুমানোর সময় মোবাইল বা এমন কোনো ডিভাইস ব্যবহার করা উচিত নয়, যেখান থেকে নীল আলো বা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি নির্গত হয়। মোবাইলের স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এই মেলাটোনিন হরমোনই মূলত ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে মোবাইল ব্যবহার করলে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে পারে না।

ঘুমের জন্য ইউটিউবে স্লিপ মিউজিক শোনা কতটা নিরাপদ

শুধু তাই নয়, ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার করলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রামের অবস্থায় যেতে পারে না। এতে গভীর ঘুম বা ডিপ স্লিপে বাধা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস থাকলে তা শরীরের পুরো স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর আগে শান্ত সুরের গান শোনা ভালো অভ্যাস হতে পারে, তবে সেটি শোনার জন্য মোবাইল ব্যবহার না করাইভালো। এর পরিবর্তে ঘর থেকে কিছুটা দূরে স্পিকার বা অন্য কোনো ডিভাইসে অল্প ভলিউমে গান শোনা যেতে পারে। এতে সঙ্গীতের আরামদায়ক প্রভাব পাওয়া যাবে, আবার মোবাইলের ক্ষতিকর নীল আলো থেকেও দূরে থাকা সম্ভব হবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, স্লিপ ফাউন্ডেশন ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:
আবহাওয়া বদলালে কাশি? রইলো ঘরোয়া সমাধান
তাড়াহুড়ো করে কোথাও পৌঁছানোর পর শরীর-মন অস্থির হয়ে থাকে কেন

এসএকেওয়াই/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।