চট্টগ্রাম-৪ আসন

আসলাম চৌধুরীর বিষয়টি চেম্বার জজ আদালতে উপস্থাপন হতে পারে আজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৭ এএম, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম সংসদ অধিবেশন চলছে। তবে ঝুলে আছে চট্টগ্রামের দুটি আসনের প্রার্থীর ভাগ্য। এরমধ্যে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), এই দুটি আসনের বিএনপি প্রার্থীরা হলেন যথাক্রমে সরোয়ার আলমগীর ও মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। নির্বাচনে তাদের ফলাফল প্রকাশ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

ফলাফল এবং গেজেট কখন প্রকাশ করা হবে, তা নির্ভর করছে আদালতের আদেশের ওপর। এর মধ্যে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হলে প্রথম অধিবেশনে তাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ কার্যত নেই। এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। নন প্রসিকিউশন ও সমঝোতার আবেদন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেটও প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। তবে এই দুই আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

এখন চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল প্রকাশ ও শপথ পাঠ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মামলটি (নন প্রসিকিউশনের) প্রস্তুত করা হয়েছে। আপিল আবেদনকারীর আবেদন শুনানির জন্য রোববার (৫ এপ্রিল) ব্যাংক ও জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে করা আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জাগো নিউজকেনিশ্চিত করে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই আইনজীবী।

এর আগে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেছেন সুপ্রিম কোর্টের  আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক লিভ টু আপিল করে। ওই আবেদন দুটি শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু জানান, আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করেছেন। আদালত বলেছেন, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু বিজয়ী হলেও ফলাফলটা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে, ফলাফল গেজেটে আকারে প্রকাশ হবে না এবং তার শপথ অনুষ্ঠিত হবে না।

এর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা গত ৩ জানুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকও পৃথক আপিল করে।

শুনানি নিয়ে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন দুটি আবেদনই খারিজ করে। ফলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। পরে ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আনোয়ার সিদ্দিকী ও ব্যাংক পৃথক রিট করেন।

গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দেন। এক্ষেত্রেও আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।

পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করেন, যা গত ২৯ জানুয়ারি চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন চেম্বার জজ আদালত আবেদন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।

এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ফলাফল স্থগিতের আদেশ দেন দেশের প্রধানবিচারপতির নেতৃত্বাধীন সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ২৮ এপ্রিল দিন ধার্য রয়েছে। 

এফএইচ/এসএনআর

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।