ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন
ঢাকার নবাবগঞ্জে সড়কে ডাকাতির সময় বাধা দেওয়ায় দুজনকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ-৮ এর বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম শেখ নাছির (৪৮)। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন—নুর ইসলাম ওরফে নুর হোসেন মোল্লা, সাইফুল আলম শেখ ওরফে সুমন শেখ, বাবুল গাজী, শেখ হাবিবুর রহমান হবি, আনোয়ার হোসেন বাবু ও আল আমিন। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সাইফুল আলম শেখ ও আল আমিন পলাতক ছিলেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর আগে নবাবগঞ্জ থানাধীন মতব্বতপুরের ডাঙ্গারচর এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় দুটি কলাগাছ ফেলে আসামিরা অবস্থান নেয়। এ সময় মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে শেখ কালাম ও জাহিদ খান সেখানে পৌঁছালে তাদের গতিরোধ করা হয়।
প্রতিরোধের চেষ্টা করলে চালক জাহিদ খান হেলমেট দিয়ে হামলাকারীদের আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি শেখ নাছির ও সাইফুল ধারালো দা দিয়ে শেখ কালামের গলায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। একই সময়ে জাহিদ খানকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করে আহত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় শেখ কালাম দৌড়ে কিছু দূর গিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে জাহিদ খান মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানালে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসিকুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। বিচার চলাকালে ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ফয়সাল মাহমুদ এবং আসামিপক্ষে মোছা. ডালিয়া পারভিন আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন।
এমডিএএ/এমএমকে