চিকিৎসা শেষে মাসুদ উদ্দিনকে আবার রিমান্ডে চায় ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী/ফাইল ছবি

চিকিৎসা শেষে সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পুনরায় রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (২৭ এপ্রিল) তাকে ঢাকা মহানগর আদালতে হাজির করে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করা হয়।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এর আগে আদালতের আদেশে তাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে রিমান্ড চলাকালে গত ১২ এপ্রিল তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে সোমবার (২৭ এপ্রিল) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দেয় এবং পরে পুলিশ পাহারায় আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

ডিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলেও তিনি এখনও অনেক তথ্য গোপন করছেন এবং আংশিক তথ্য দিচ্ছেন। এছাড়া তার দেওয়া তথ্য অন্যান্য মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় সেগুলো যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, আলোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের ভূমিকা ও প্রকৃত সম্পৃক্ততা উদঘাটনের জন্য তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। এসব কারণ দেখিয়ে পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে এই মামলা করা হয়। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার ফলপট্টিতে অবস্থান করছিলেন দেলোয়ার হোসেন (৪০)। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেখানে গুলিবর্ষণ করে, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহতের স্ত্রী লিজা মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় দায়ের করা আরেকটি মামলায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এর ধারাবাহিকতায়, গত ১১ এপ্রিল পূর্বের ৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমান আবেদনের মাধ্যমে আবারও তাকে রিমান্ডে নেওয়ার চেষ্টা করছে ডিবি, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এমডিএএ/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।