খায়রুল হককে গ্রেফতার-হয়রানি না করার নির্দেশনায় রিট, শুনানি রোববার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৮ পিএম, ১৬ মে ২০২৬
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক, ফাইল ছবি

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া আসামি হিসেবে গ্রেফতার না দেখানো এবং হয়রানি না করার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানির জন্য রোববার (১৭ মে) দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিচারপতি রাজিক আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ শুনানির দিন ঠিক করা হয়।

এর আগে পৃথক পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতার দেখানোর ওই প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বুধবার (১৩ মে) রিট দায়ের করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হক। রিটটি পরদিন আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে এবং পরে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, মোতাহার হোসেন সাজু ও মোস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ।

ওইদিন আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জানান, রিটটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে। শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আরজি জানায়। আদালত শুনানির জন্য রোববার( ১৭ মে) দুপুর সময় নির্ধারণ করেছেন।

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এর পর থেকে কারাগারে তিনি।

যুবদলের কর্মী আবদুল কাইয়ুম হত্যা মামলা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে পৃথক চার মামলায় হাইকোর্ট ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অপর মামলায় হাইকোর্ট থেকে ১১ মার্চ জামিন পান তিনি।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। আপিল বিভাগ গত ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) ও আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল থাকে।

তবে এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই দুই মামলায় ১২ মে হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পান খায়রুল হক। এরপর এই দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে এখন রিট হলো।

এফএইচ/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।