সিসা লাউঞ্জ ইস্যু

ডিএমপি কমিশনারকে হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার আবেদন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪০ পিএম, ১৫ মে ২০২৬

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত সিসা/হুক্কা লাউঞ্জ বন্ধে হাইকোর্ট বিভাগের জারি করা নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ চেয়ে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের ন্যাশনাল কাউন্সিল চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের আইনজীবী ও রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন। আবেদনটি রিট পিটিশনের ধারাবাহিকতায় দায়ের করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জনস্বার্থে দায়ের করা রিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা সিসা/হুক্কা লাউঞ্জে তামাকজাত দ্রব্য ও মাদকসদৃশ উপাদান সেবনের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিটে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন অভিজাত এলাকা ও বাণিজ্যিক জোনে পরিচালিত এসব সিসা লাউঞ্জ তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেশাজাতীয় সংস্কৃতি বিস্তারে ভূমিকা রাখছে এবং প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘন করেই অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করছে।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), র‍্যাব, ডিএমপি কমিশনার এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেন। একই সঙ্গে আবেদনকারীর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু আদালতের নির্দেশনার নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলেও কার্যকর কোনো অভিযান, দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ কিংবা আদালতে কোনো সন্তোষজনক অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি বলে আদালত অবমাননার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, রাজধানীর বনানী, গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে সিসা লাউঞ্জ পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তামাকজাত দ্রব্যের পাশাপাশি মাদকসদৃশ উপাদান ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। অথচ উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।

আদালত অবমাননার আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১১১ ও ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আদেশ ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও নিষ্ক্রিয়তা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

আবেদনে ডিএমপি কমিশনারকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ অমান্যের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন,‌‌‌‌ হাইকোর্ট দেশের জনস্বাস্থ্য, তরুণ সমাজ এবং আইনের শাসনের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। কিন্তু বাস্তবে যদি অবৈধ সিসা লাউঞ্জ চলতেই থাকে, তাহলে তা আদালতের আদেশের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। কিন্তু বাস্তবে যদি প্রকাশ্যে সিসা লাউঞ্জ পরিচালিত হয় এবং প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে পারেন। একই সঙ্গে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও ব্যাখ্যা চাওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন বলেও মত দেন তারা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসা বা হুক্কা সেবনকে অনেক সময় সাধারণ ধূমপানের তুলনায় কম ক্ষতিকর হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তরুণদের মধ্যে এ সংস্কৃতি বিস্তার রোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং নিয়মিত নজরদারি জরুরি বলে তারা মনে করেন।

এফএইচ/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।