আপিল খারিজের পরও একই কথা বলছেন কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৫ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০১:৩৭ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে আজ। বুধবার প্রথম দিনের মতো ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান।

প্রথম দিনের যুক্তিতে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) এবং চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী। যুক্তিতর্কে আইনজীবী প্রশ্ন তোলার পর তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন আদালত।

আদালত তখন আইনজীবীর কাছে জানতে চান, এফআইআর এবং চার্জশিটের বিরুদ্ধে করা আবেদন হাইকোর্টে খারিজ হয়েছিল। এরপর তো ওই খারিজের বিরুদ্ধে আপিলও করেছিলেন। সেটাও খারিজ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আদালত বলেন, আপিল বিভাগে খারিজ হওয়ার পরে একই বিষয় নিয়ে এখন আবার কেন প্রশ্ন তুলছেন? এর জবাবে আইনজীবী বলেন, হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে আবেদন করলেও এফআইআর এবং চার্জশিট পড়া হয়নি। এছাড়া আইনজীবী আদালতে বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং জেরার অংশ বিশেষ নিয়ে বিভিন্ন যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

যুক্তিতর্কে আব্দুর রেজ্জাক খান বলেন, এটি একটি অসাড় যুক্তিহীন সৃজিত মামলা। পরে বেলা পৌনে ২টার দিকে প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করা হয়। এরপর আদালত প্রাঙ্গণ ছেড়ে যান খালেদা জিয়া।

পরে আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান সাংবাদিকদের জানান, আজ বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। এরপর বিএনপি নেত্রীর পক্ষে তার আরও তিন আইনজীবী তাদের যুক্তি তুলে ধরবেন। তারা হলেন, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার।

এর আগে বেলা ১১টার কিছুক্ষণ পরেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে এজলাসে আসন গ্রহণ করার কয়েক মিনিট পর বিচারক তার আসনে বসেন। এরপরই মামলার প্রথম দিনের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবী।

এ মামলায় আজ আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ করেন। যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে দুদক খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চায়। দুদকের পক্ষে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আনা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলা করে দুদক। ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দেন। তার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরু করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

খালেদা জিয়া, সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ এ মামলায় জামিনে আছেন। খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান গত নয় বছর ধরে দেশের বাইরে, তার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

এফএইচ/ওআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :