প্রাথমিকে উপবৃত্তির নির্দেশিকা প্রকাশ, কারা কত টাকা পাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২৬
প্রাথমিকের শতভাগ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দিচ্ছে সরকার, ছবি: ইউনেসকো বাংলাদেশ

 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই-সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (এসকেটি) অধ্যয়নরত সব শিক্ষার্থী উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতাভুক্ত হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়।

উপবৃত্তির টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, ব্যাগ, ছাতা, স্কুল ড্রেস, জুতা ও টিফিন বক্স কেনা যাবে। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম সরকারের ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল’ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রাক্–প্রাথমিক শ্রেণির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসিক ৭৫ টাকা হারে উপবৃত্তির টাকা পাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ১৫০ টাকা, দুজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৩০০ টাকা হারে উপবৃত্তির টাকা পাবে।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু রয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ২০০ টাকা, দুজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৪০০ টাকা হারে উপবৃত্তির টাকা পাবে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপবৃত্তির পরিমাণ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে হ্রাস বা বৃদ্ধি করা যাবে। প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাবে।

শিক্ষা উপবৃত্তি পাওয়ার শর্ত

প্রাক্–প্রাথমিকের জন্য ন্যূনতম বয়স চার বছর এবং প্রতি মাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০ শতাংশ উপস্থিতি। প্রথম শ্রেণির জন্য প্রতি মাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০ শতাংশ উপস্থিতি। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য প্রতি মাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০ শতাংশ উপস্থিতি এবং পূর্ববর্তী শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তি।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বেলায় প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তির শর্ত প্রযোজ্য হবে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ছাড়পত্রে শিক্ষার্থীর নম্বর প্রাপ্তির বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে। প্রাক্–প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (বাংলা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইংরেজি) থাকতে হবে। শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত মুঠোফোনে খোলা সক্রিয় এমএফএস অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

উপবৃত্তি পেতে আরও যত শর্ত

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বর না পেলে, সে উপবৃত্তি পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অথবা ধারাবাহিকভাবে তিন মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে উক্ত শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

শিক্ষার্থী কোনো মাসে নিয়মিত উপস্থিতির শর্ত ভঙ্গ করলে উক্ত মাসের উপবৃত্তি প্রদান করা যাবে না। ওই শিক্ষার্থী পরবর্তী সময় শর্তপূরণ করলে শর্তপূরণের মাস থেকে আবার উপবৃত্তি প্রাপ্তির জন্য যোগ্য হবে। শিক্ষার্থীকে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া প্রতি মাসে অন্যূন ৮০ শতাংশ পাঠদিবসে উপস্থিত থাকতে হবে। যুক্তিসংগত কারণ প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্ধারণ করবেন।

তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৮০ শতাংশ পাঠদিবসের কম হলে, তা প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক যুক্তিসংগত কারণ বলে বিবেচিত হলে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত শিথিল করতে পারবেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের কোনো এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা সম্ভব না হলে, দুর্যোগের কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান স্থগিতকালীন উপস্থিতি দিবসগুলো উক্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মাসিক উপস্থিতি নির্ধারিত হারের চেয়ে কম হলেও উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমোদনক্রমে উপবৃত্তি দেওয়া যাবে। জুন মাসের উপবৃত্তির টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে ১০ জুন পর্যন্ত পাঠদিবসের ৮০ শতাংশ উপস্থিতির ভিত্তিতে উপবৃত্তি বিতরণ করা যাবে।

এএএইচ/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।