যেসব যুক্তিতে জামিন চেয়ে খালেদার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ২০ মে ২০১৮

হত্যা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কুমিল্লায় দুটি ও মানহানির অভিযোগে নড়াইলের একটি মামলাসহ মোট তিনটি মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

দেশের দুই জেলায় দায়ের করা পৃথক ওই তিন মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন তার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে খালেদার পক্ষে।

মামলার নথি ও আইনজীবীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এসব মামলার সর্বশেষ অবস্থা এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে করা জামিন আবেদনের উল্লেখ করা যুক্তিগুলো তুলে ধরা হলো-

অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে কুমিল্লায় মামলা :

২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দারপুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়।

মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চলমান। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেয় আদালত। পরে গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেন। এ অবস্থায় শুনানি না করে এই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়।

এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনে ১৩টির মতো যুক্তি দেখিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যুক্তিসমূহ হলো- মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) খালেদা জিয়ার নাম নেই, ঘটনাস্থলেও তিনি ছিলেন না। তিনি অসুস্থ, অন্য মামলায় জামিনে আছেন। অপরযুক্তিতে বলা হয়, তিনি বয়স্ক, এ মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে, এ মামলার অন্য আসামিরা জামিনে আছেন। তাই খালেদা জিয়াও জামিন পাওয়ার যোগ্য।

কুমিল্লার অপর মামলাটি হত্যার অভিযোগে :

২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই ঘটনায় ৭ যাত্রী মারা যায় এবং আরও ২৫-২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হয়। এ ঘটনার পরদিন (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। পরে এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। বিচারকালে দায়রা আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ জুন দিন ধার্য রাখা হয়। কিন্তু এ অবস্থায় গত ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তাই ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এই মামলায় জামিন আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে- মামলার ৩ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কেউ জবানবন্দিতে খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। এছাড়াও খালেদা জিয়া অসুস্থ, বয়স্ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় হাইকোর্টে তার জামিন চাওয়া হয়েছে।

নড়াইলে মানহানি মামলা :

২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

নড়াইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলাটি বিচরাধীন। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তার আইনজীবীরা আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য গত ৮ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন। এরপর নির্ধারিত দিনে শুনানি নিয়ে পুনরায় জামিন শুনানির জন্য ২৫ মে দিন ধার্য করেছেন। এ অবস্থায় চলমান মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে- দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। কিন্তু এই তিন ধারার মামলায় জামিনযোগ্য। তাছাড়াও খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বয়স্ক। তাই এসব যুক্তিতে এ মামলায় জামিন চেয়েছেন তার আইনজীবীরা।

এফএইচ/জেএইচ/পিআর