এ সময় সুস্থ থাকতে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৪ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঋতু পরিবর্তনের সময় শরীর খারাপ হওয়া খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে শরীরের মেটাবলিজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হজম প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব পড়ে। তাপমাত্রা দ্রুত ওঠানামা করলে শরীরকে সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে।

এই সময় অনেকেই দৈনন্দিন অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন আনেন। ফলে ঠান্ডা লাগা, ডিহাইড্রেশন, ত্বকের সমস্যা কিংবা হজমের অস্বস্তির মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মৌসুম বদলের এই সংবেদনশীল সময়ে সুস্থ থাকতে হলে কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

45

ঠান্ডা খাবার বা পানীয় না খাওয়া
শীতকালে অনেকেই গরম খাবার ও গরম পানীয় খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু আবহাওয়া
একটু গরম লাগলেই অনেকে হঠাৎ করে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি, কোল্ড ড্রিংক্স বা আইসক্রিম খাওয়া শুরু করেন। এই অভ্যাস শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

হঠাৎ ঠান্ডা খাবার গ্রহণ করলে হজমের সমস্যা, গলা ব্যথা, সর্দি কিংবা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীর তখনো নতুন তাপমাত্রার সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেনি, তাই ধীরে ধীরে খাবারের ধরনে পরিবর্তন আনা ভালো।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ না করা
অনেকে মনে করেন ত্বকের যত্ন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার শুধু শীতকালে প্রয়োজন। কিন্তু ঋতু পরিবর্তনের সময়ও ত্বক সহজেই শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। বাতাসের আর্দ্রতার পরিবর্তন ত্বকে জ্বালা, শুষ্কতা বা সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে।

তাই এই সময় হালকা কিন্তু হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। নিয়মিত ত্বকের যত্ন বজায় রাখলে ত্বক সুস্থ থাকে এবং হঠাৎ শুষ্কতা বা ব্রণের ঝুঁকিও কমে।

cg

পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি
শীতকালে অনেকেই কম পানি পান করেন। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তৃষ্ণা কম লাগে এবং বারবার বাথরুমে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে অনেকে সচেতনভাবেই পানি কম খান।

কিন্তু আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় এই অভ্যাস বজায় রাখা ঠিক নয়। এখন রোদ বাড়তে শুরু করে এবং ঘামও বেশি হয়। ফলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি না খেলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং ত্বকের নিস্তেজতা দেখা দিতে পারে।

তাই ধীরে ধীরে পানি পানের পরিমাণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শসা, ডাব, তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল খাওয়ার অভ্যাসও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

পোশাকের দিকে খেয়াল রাখুন
ঋতু পরিবর্তনের সময় দুপুরে গরম লাগলেও ভোর ও সন্ধ্যায় এখনো ঠান্ডা ভাব থাকতে পারে। তাই হঠাৎ করে খুব পাতলা পোশাক পরা ঠিক নয়। এতে সহজেই ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। হঠাৎ ঠান্ডা লাগলে সর্দি-কাশি, শরীর ব্যথা বা ফ্লুর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। গলা ও মাথা ঢেকে রাখলে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি কমে।

fgh

সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা
ঋতু পরিবর্তনের সময় ছোটখাটো অসুস্থতা এড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আর এটি গড়ে ওঠে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে।

প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। পুষ্টিকর খাদ্য শরীরকে দ্রুত পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে এবং রোগের ঝুঁকি কমায়।

মৌসুমের এই পরিবর্তনের সময়টিকে শরীরের জন্য এক ধরনের স্ট্রেস ফেজ বলা হয়। কারণ তখন শরীরকে একই সঙ্গে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জলীয় ভারসাম্য এবং মেটাবলিজমের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।

তাই হঠাৎ করে জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনার বদলে ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলানোই সবচেয়ে ভালো উপায়। এতে শরীর সহজে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যায়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া মায়ো ক্লিনিক ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।