চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৬ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২৬
কাতারে মার্কিন বিমানঘাটি/ ফাইল ছবি: যুক্তরাষ্ট্র সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর নিখুঁত হামলা চালানোর জন্য ইরানকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে রাশিয়া। এ বিষয়ে অবগত তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। খবরে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধে কোনো শক্তিশালী মার্কিন প্রতিপক্ষের পরোক্ষভাবে যুক্ত হওয়ার এটিই প্রথম প্রমাণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া ইরানের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমানের অবস্থানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাঠাচ্ছে। এই ধরনের সহযোগিতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট এখন একটি বিশ্বব্যাপী রূপ নিতে যাচ্ছে, যেখানে পারমাণবিক শক্তিধর রাশিয়া তার উন্নত গোয়েন্দা সক্ষমতা দিয়ে ইরানকে সাহায্য করছে।

একজন কর্মকর্তা এই প্রচেষ্টাকে ‘বেশ বিস্তৃত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। রাশিয়ার সহায়তার বিষয়ে মন্তব্য করেনি সিআইএ এবং পেন্টাগনও।

হামলার ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলো অত্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে—যেমন কমান্ড ও কন্ট্রোল অবকাঠামো, রাডার ব্যবস্থা এবং অস্থায়ী সামরিক স্থাপনা।

গত রোববার কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতর অবস্থিত সিআইএর স্টেশনটিও ইরানি হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, দূতাবাসের একাংশ এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা আর ব্যবহারযোগ্য নেই।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর বিশেষজ্ঞ দারা মাসিকোট বলেন, ইরান খুব নিখুঁতভাবে মার্কিন আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার এবং কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। দেশটির নিজস্ব সামরিক স্যাটেলাইট খুব সীমিত এবং তাদের কোনো বড় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কও নেই। ফলে রাশিয়ার উন্নত মহাকাশভিত্তিক নজরদারি সক্ষমতা থেকে পাওয়া তথ্য তাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে।

হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের বেলফার সেন্টারের গবেষক নিকোল গ্রাজেভস্কি বলেন, ইরানের পাল্টা হামলাগুলোতে উচ্চমাত্রার কৌশলগত দক্ষতা দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

দুইজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও চীন আপাতত দেশটির প্রতিরক্ষায় সরাসরি সহায়তা করছে বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেন যুদ্ধের ‘প্রতিশোধ’?

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে, রাশিয়া এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সাহায্য করার মাধ্যমে তার ‘প্রতিশোধ’ নিচ্ছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এরই মধ্যে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা চেয়েছে।

কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।