রাজীবের হাত বিচ্ছিন্ন : দুই বাসচালকের জামিন আবারও নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ২৪ মে ২০১৮
রাজিব হোসেন, বেপরোয়া দুই বাসের চাপায় হাত হারিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

বেপরোয়া দুই বাসের চাপায় তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্ন এবং পরবর্তীতে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দুই বাসচালকের জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৪ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানার আদালতে দুই বাসচালকের জামিনের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত রোববার দুই বাসচালকের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম। দুই বাসচালক হলেন- বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ এবং স্বজন পরিবহনের চালক মো. খোরশেদ।

গত ১৬ এপ্রিলও এ আসামিদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন সিএমএম আদালত। আর গত ৫ এপ্রিল আদালত দুই আসামির দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর গত ৮ এপ্রিল আসামিদের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠান আদালত।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে ঘেঁষে অতিক্রম করে।

সে সময় দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এতে তার মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পর তাকে প্রথমে শমরিতা হাসপাতাল এবং পরে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ১৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান রাজীব।

৩ এপ্রিল রাজীব বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় পেনাল কোডের ২৭৯/৩৩৮ এর ‘ক’ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ৪ এপ্রিল দুই বাসের চালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজীব মারা যাওয়ার পর ২৩ এপ্রিল মূল মামলার ধারার সঙ্গে পেনাল কোডের ৩০৪ এর ‘খ’ ধারা সংযোজন করা হয়।

জেএ/জেডএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :