মামলায় শিশুর পরিচয় ও ছবি প্রচারে গণমাধ্যমকে হাইকোর্টের সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০১ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শিশু আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলার শিশুর নাম, ঠিকানা, ছবি ও তার পরিচিতি প্রচার বা প্রকাশে দেশের সকল গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকতে বলেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা এক রুলের শুনানি শেষে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রিটকারী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাগুফতা তাবাসসুম আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম।

ব্যারিস্টার সায়্যেদুল হক সুমন জানান, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিনসহ সংবাদ মাধ্যমে শিশু আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলার শিশুর নাম, ঠিকানা, ছবিসহ তার পরিচিতি প্রচারে হাইকোর্ট গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

তিনি বলেন, গত ৫ নভেম্বর ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ‘বয় গেটস টেন ইয়ার্স ফর কিলিং ক্লাসমেটস’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করে। সে খবরে শিশু অপরাধীর পরিচিতি প্রকাশ করা হয়েছে, যা স্পষ্ট শিশু আইন-২০১৩ এর ২৮ ধারার লঙ্ঘন। এ কারণে রিট করা হয়।

রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৯ নভেম্বর শিশু আইন- ২০১৩ এর ২৮ ধারা অনুসারে শিশু অপরাধীর নাম, ঠিকানা, ছবিসহ তার পরিচিতি সংবাদপত্র, ম্যাগাজিনসহ যেকোনো সংবাদ মাধ্যমে প্রচার-প্রকাশ বন্ধের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না -তা জানতে রুল দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে পত্রিকাটির সম্পাদককে বলা হয়।

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, আইনে স্পষ্ঠভাবে আছে শিশু আসামির নাম ব্যবহার করতে পারবেন না। ডেইলি স্টার একটি নিউজে একজন শিশুর নাম ঠিকানা ব্যবহার করেছে। তাকে আইডেন্টিফাই করেছেন। বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনলে শুনানির পর আজ (মঙ্গলবার) রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, নাম ঠিকানা এবং শব্দ চয়নের কারণে ডেইলি স্টার ইলিগ্যাল কাজ করেছে। সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, যেন পরবর্তীতে না হয়। পাশাপাশি সকল গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে বলা হয়, এটা মেনে চলার জন্য, যেন কিশোরের নাম ঠিকানা প্রকাশ না পায়।

শিশু আইন-২০১৩ এর ‘শিশু-আদালতের কার্যক্রমের গোপনীয়তা’ শিরোনামে ২৮ ধারায় যা বলা আছে-
(১) শিশু-আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলায় জড়িত বা সাক্ষ্য প্রদানকারী কোনো শিশুর ছবি বা এমন কোনো বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম অথবা ইন্টারনেটে প্রকাশ বা প্রচার করা যাইবে না, যাহা সংশ্লিষ্ট শিশুকে শনাক্তকরণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুর ছবি, বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশ করা শিশুর স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হইবে না মর্মে শিশু-আদালতের নিকট প্রতীয়মান হইলে উক্ত আদালত সংশ্লিষ্ট শিশুর ছবি, বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।

এফএইচ/আরএস/আরআইপি