কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : গ্রেফতার ৬ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৯

কাস্টমস কর্মকর্তার ছদ্মবেশে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান এ আদেশ দেন।

এর আগে ওই ছয়জনকে আদালতে হাজির করে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় প্রতারণার অভিযোগে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই থানার উপ-পরিদর্শক এস এম এলিস মাহমুদ। অপরদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নুরুল হক (৫৭), মো. শেখ আলম (৪৩), ফিরোজ আলম (৫৭), মোশারফ (৫৪), মাসুদ রানা (৪৩) ও রেনু মিয়া ওরফে রনি (৩৮)।

অপরদিকে মামলাটির এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ মে দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে গত ২ এপ্রিল রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। পরদিন ৩ এপ্রিল কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, ‘ছয় সদস্যের এ প্রতারক চক্রের প্রধান কাস্টমস সহকারী কমিশনার (এসি) পরিচয় দেয়া নুরুল হক। দামি গাড়ি হাঁকিয়ে নিজের এ পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করেন তিনি। এছাড়া চক্রটি নিজেদের কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে, শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের চাকরি দেয়া ও ব্যবসায়ীদের কাছে কম মূল্যে সোনাদানা বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিত।’

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, মাঠ পর্যায়ে তাদের দু-একজন সদস্য আছে। যারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে টার্গেট ভিকটিম ও গ্রাহক চিহ্নিত করে। তারপর মানুষ অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করে প্রতারণা করে। প্রতারণার কৌশল হিসেবে প্রতারক চক্রটি শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীকে কাস্টমস অফিসার হিসেবে চাকরি দেয়ার লোভনীয় অফার দিত। এজন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতো চক্রটি।

একপর্যায়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ভিকটিমদের বিশ্বাস অর্জনে নিরাপদ স্থানে কাস্টমস র‌্যাংক, ব্যাজ, ইউনিফর্ম পরিহিত, দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে সাক্ষাৎ করে। টাকার অঙ্ক নির্ধারণ হওয়ার পর নিয়োগপত্র প্রদানের জন্য তারিখ নির্ধারণ করে।

এরপর সুকৌশলে প্রতারক চক্রটি ভিকটিমের নিয়োগপত্র হস্তান্তর করার তারিখের আগেই মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করে। টাকা হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল সিম বন্ধ করে চক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির আরও বলেন, এ প্রতারক চক্র আরেকটি প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করত। তারা বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসায়ীদের কাস্টমসে জব্দ স্বর্ণের বার, বিস্কুট, জাপানি পার্টস, কটন সুতা, গোল্ডেন সুতা, স্বর্ণের চেন, মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ ইত্যাদি কম মূল্যে বিক্রির অফার দিত।

মালামাল সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আমদানি করার কারণে কাস্টমস এগুলো জব্দ করেছে বলে তাদের প্রলোভন দেখায়। লোভনীয় অফারে প্রলুব্ধ হয়ে ক্রয় করতে আগ্রহী হন ব্যবসায়ীরা। পরে চক্রটি সুকৌশলে মালামাল প্রদানের নির্ধারিত তারিখ ঠিক করে এবং মূল্যের একটি অংশ অগ্রিম হিসেবে আদায় করে, ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে। এতেই লাখ লাখ টাকা পায় তারা।’

র‌্যাব জানায়, চক্রটি দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে এমন প্রতারণা করে আসছে।

জেএ/এমবিআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।