চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ঘরের মাঠে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবে চেলসি?
প্রথম লেগে জয় পেলেও কঠিন এক লড়াই অপেক্ষা করছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির সামনে। প্রথম লেগে জিতলেও শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে চেলসির বিপক্ষে কঠিন এক ম্যাচ খেলতে পশ্চিম লন্ডনে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়নরা। বলা যায় দুই দলের জন্যই ম্যাচটা কঠিন। ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য চেলসির আর প্রতিপক্ষের মাঠে সতর্ক অবস্থানে থাকবে পিএসজি।
প্রথম লেগে পার্ক দেস প্রিন্সেসে ৫-২ গোলের বড় জয় পেয়েছিল লুইস এনরিকের দল। যদিও স্কোরলাইন দেখেই ম্যাচের সামগ্রিক চিত্রটা বুঝে ওঠা সম্ভব না। ম্যাচের ৮৬ মিনিট পর্যন্ত লড়াই ছিল ৩-২ গোলের, এরপর খভিচা কোয়ারাতস্কেলিয়ার গোল ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা নতুনকিছু নয়। তাই প্রথম লেগে বড় ব্যবধানের জয় পেলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই পিএসজির।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মাঠে নামার আগে কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে চেলসির। সপ্তাহান্তে ঘরের মাঠে ১-০ ব্যবধানে নিউক্যাসলের কাছে হেরেছে তারা। শীর্ষ পাঁচে থাকার আশায় বড় ধাক্কা খেয়েছে তারা। বিশেষ করে পরদিন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-১ গোলে হারানোর পর।
নিউক্যাসলের বিপক্ষে চেলসির এই হার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে ব্রেন্টফোর্ডকে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। সোমবার উলভসের বিপক্ষে জিততে পারলে তারা ষষ্ঠ স্থানে থাকা চেলসির চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে থাকবে।
এদিকে পিএসজি সপ্তাহান্তে কোনো ম্যাচ খেলেনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পূর্ণ মনোযোগ দিতে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন তাদের বিশ্রাম দিয়েছে।
প্রায় পূর্ণ শক্তির দলই পাচ্ছেন চেলসি কোচ লিয়াম রোসেনিয়র। কেবল হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে রিস জেমস ও অসুস্থতার কারণে মালো গুস্তো এই ম্যাচে মাঠে নামতে পারছেন না। দলকে ভোগাতে পারে জেমসের অনুপস্থিতি। কেননা, চলতি মৌসুমে তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
নিউক্যাসলের বিপক্ষে হতাশাজনক হার এবং লিডস ইউনাইটেড ও বার্নলির বিপক্ষে হতাশাজনক ফল পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে মরিয়া চেলসি। তবে যত যাই হোক, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে স্বাগতিক চেলসি। উয়েফা প্রতিযোগিতায় নিজেদের মাঠে শেষ ১১ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় পেয়েছে ‘দ্য ব্লুজ’, যার মধ্যে চলতি মৌসুমের চারটি ম্যাচেই এসেছে জয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সটাই তুলে ধরেছে চেলসি। লিগ পর্বে তারা আয়াক্সকে ৫-১ এবং বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। সুতরাং, লিয়াম রোসেনিয়রের দলের জন্য তিন গোলের ব্যবধানে জয় পাওয়াটা একেবারে অসম্ভব নয়—বিশেষ করে তারা যদি আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়।
ধারণা করা হচ্ছে রোসেনিয়র আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েই মাঠে নামবেন। কারণ, ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিতে হলে তাদের অন্তত তিন গোল করতে হবে। তবে পুরো শক্তি নিয়ে আক্রমণে গেলে রক্ষণভাগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বিপদও ডেকে আনতে পারে।
তবে কে কার সামনে বিপদে পড়তে যাচ্ছে, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকঘণ্টা।
আইএন