কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : গ্রেফতার ৬ জন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৩ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০১৯

কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এক দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (৬ এপ্রিল) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজধানীর দারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম এলিস মাহমুদ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান মণ্ডল তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিরা হলেন- নুরুল হক (৫৭), মো. শেখ আলম (৪৩), ফিরোজ আলম (৫৭), মোশারফ (৫৪), মাসুদ রানা (৪৩) ও রেনু মিয়া ওরফে রনি (৩৮)।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান তাদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ দিন ওই ছয়জনকে আদালতে হাজির করে দারুস সালাম থানায় করা প্রতারণার মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলাটির এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ মে দিন ধার্য করেন আদালত।

গত ২ এপ্রিল রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের ওই ছয় সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। পর দিন কারওয়ানবাজারের র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, ‘ছয় সদস্যের এ প্রতারক চক্রের প্রধান কাস্টমস সহকারী কমশিনার (এসি) পরিচয় দেয়া নুরুল হক। দামি গাড়ি হাঁকিয়ে নিজের এ পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করেন তিনি। এছাড়া চক্রটি নিজেদের কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয়ে দিয়ে শিক্ষিত বেকার তরুণদের চাকরি দেয়া ও ব্যবসায়ীদের কাছে কম মূল্যে সোনাদানা বিক্রির নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিত।

র‌্যাব অধনিায়ক বলেন, মাঠ পর্যায়ে তাদের দু-একজন সদস্য আছে, যারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে টার্গেট ভিকটিম ও গ্রাহক চিহ্নিত করে। তারপর ব্যক্তি অনুযায়ী প্রতারণার কৌশল নির্ধারণ করে। প্রতারণার কৌশল হিসেবে প্রতারক চক্রটি শিক্ষিত বেকার তরুণদের কাস্টমস অফিসার হিসেবে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখায়। এজন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করত তারা।

একপর্যায়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা র্পূব পরিকল্পনা মোতাবেক ভিকটিমদের বিশ্বাস অর্জনে নিরাপদ স্থানে কাস্টমস র‌্যাংক, ব্যাজ, ইউনিফর্ম পরিহিত, দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে সাক্ষাৎ করে। টাকার অঙ্ক নির্ধারণ হওয়ার পর নিয়োগপত্র প্রদানের জন্য তারিখ নির্ধারণ করে।

এর পর সুকৌশলে প্রতারক চক্রটি ভিকটিমের নিয়োগপত্র হস্তান্তর করার তারিখের আগেই মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করে। টাকা হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল সিম বন্ধ করে চক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, এ প্রতারক চক্র আরেকটি প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করত। তারা বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসায়ীদের কাস্টমসে জব্দ স্বর্ণের বার, বিস্কুট, জাপানি পার্টস, কটন সুতা, গোণ্ডেন সুতা, স্বর্ণের চেন, মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ ইত্যাদি কম মূল্যে বিক্রির প্রস্তাব দিত।

মালামাল সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আমদানির কারণে কাস্টমস এগুলো জব্দ করেছে বলে তাদের প্রলোভন দেখায়। লোভনীয় প্রস্তাবে প্রলুব্ধ হয়ে ক্রয় করতে আগ্রহী হন ব্যবসায়ীরা। পরে চক্রটি সুকৌশলে মালামাল প্রদানের নির্ধারিত তারিখ ঠিক করে এবং মূল্যের একটি অংশ অগ্রিম হিসেবে আদায় করে ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। চক্রটি দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে এমন প্রতারণা করে আসছে।

জেএ/এমএসএইচ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।