দুধ-কলা দিয়ে সাপ পুষছে বাংলাদেশ ব্যাংক : খেলাপিদের নিয়ে হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৪ এএম, ২২ মে ২০১৯

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিপত্র জারি করেছিল তার ওপর আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত সম্পূরক এক আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফএরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ নিজেই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনিরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন করছে। তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) দুধ-কলা দিয়ে সাপ পুষছে। যারা ঋণখেলাপি তাদের পক্ষে কাজ করছে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) হাইকোর্টের এই বেঞ্চ এক আদেশে গত ২০ বছরে এক কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপির তালিকা ২৪ জুনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জমা দিতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কী পরিমাণ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে- সেসব তথ্য ওই সময়ের মধ্যে জমা দিতে বলেন আদালত। এর আগেও এই মামলার শুনানিতে ঋণখেলাপি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে একাধিকার উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্ট।

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুনানির সময় হাইকোর্ট বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক এভাবে দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন করছে। ব্যাংকগুলোই মূলত ঋণখেলাপিদের সুযোগ করে দিচ্ছে। তারা দুধ-কলা দিয়ে সাপ পুষছে। ব্যাংকগুলো তাদের কথায় চলে। যারা ঋণখেলাপি, তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছে। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পাচার করা হচ্ছে, অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোনো পদক্ষেপ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্দেশ্যই হচ্ছে- যারা লুটপাট করছে, ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করছে না; তাদের সমর্থন দেয়া।

আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এখন যদি তাদের ছাড় দেয়া হয়, তাহলে তারা আরও এক লাখ কোটি টাকা নিয়ে যাবে।’

ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে না আনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেন, ‘সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু তা করেনি। তারা তো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও মানছে না।’

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে সার্কুলার- সেটি গত ১৬ মে শুনানিতে স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় পর্যন্ত সার্কুলার জারি হয়নি। পরে ওই দিন (১৬ মে) বিকেলেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই সার্কুলার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। সেটিই আমরা চ্যালেঞ্জ করে স্থগিত চেয়েছিলাম। এমন প্রেক্ষিতে আমরা আবেদন জানিয়েছিলাম যে, সার্কুলারটা মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হোক। আদালত ২৪ জুন পর্যন্ত এ সার্কুলারের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়েছে। ওই দিন পরবর্তী আদেশ হবে।

এফএইচ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :