এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর বাতিলে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৯

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (এমপি পদে) স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিল চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), আইন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ পাঁচজনের প্রতি এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে ওই বিধান বাতিল না করলে হাইকোর্টে এর বৈধতা নিয়ে রিট করা হবে বলে উল্লেখ করা হয় নোটিশে।

রোববার রেজিস্ট্রি ও ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেনের পক্ষে নোটিশটি পাঠিয়েছেন ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান।

নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ প্রেরণকারী ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর। গণতন্ত্র চর্চা এবং তার সংসদীয় এলাকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী।

নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা বর্ণিত আছে। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) এর ১২(২)(৩এ)(এ) ধারায় উল্লেখিত এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান স্বতন্ত্র প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বড় বাধা। এটি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আরপিওর ১২(২)(৩এ)(এ) ধারার হস্তক্ষেপে জনগণের অধিকার খর্ব হচ্ছে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ ধরনের বিধান নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিধানটির প্রয়োগ হয় না।

নোটিশে বলা হয়, ১/১১ সেনা নিয়ন্ত্রিত অগণতান্ত্রিক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে বিধানটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল আরপিওতে। উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। ভোটাররা গোপন কক্ষে ভোট দেন। এতে প্রতিনিধি নির্বাচনে তাদের সুরক্ষার পাশাপাশি গোপনীয়তা বজায় থাকে। কিন্তু এক শতাংশ ভোটার যখন স্বাক্ষর করেন এতে তাদের গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে পড়ে, যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

আরও বলা হয়, আবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে এটি ভোট কেনার সুযোগ করে দেয়, যা দুর্নীতিতে প্ররোচিত করতে পারে। এ বিধানের কারণে রাজনৈতিক দলগুলো স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। এতে মানোনয়ন বাণিজ্যেও সুযোগ তৈরি হয়।

এসব বিবেচনায় সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক আরপিওর ১২(২)(৩এ)(এ) বিধানটি তিন মাসের মধ্যে বাতিলের জন্য অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় এ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

এফএইচ/জেএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]