চাল চুরি : শাহজাদপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নোটিশ
ত্রাণের চাল নিয়ে অনিয়ম করার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) ওই ইউনিয়নের সংক্ষুব্ধ ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ নোটিশ পাঠান।
স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাদের সরকারি ইমেইলে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, অবিলম্বে ত্রাণের চাল আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না গ্রহণ করলে হাইকোর্টে রিট করা হবে।
নোটিশে বলা হয়, নদীভাঙনের শিকার কৈজুরী ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র ও ভূমিহীন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে এক মাস ধরে ওই ইউনিয়নে লকডাউন চলমান রয়েছে। ফলে ইউনিয়েনের খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কর্মহীন ও অসহায় মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ত্রাণের চাল আত্মসাৎ করেছেন এই চেয়ারম্যানের মো. সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় ত্রাণবঞ্চিত হাজার হাজার অসহায় মানুষ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও সাধারণ জনগণের বিক্ষোভের খবর পেয়ে গত ১৫ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জোহা ঘটনাস্থলে গেলে সাধারণ জনগণ ত্রাণের চাল আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তাকে অবহিত করে।
ত্রাণের চাল আত্মসাতের চলমান অভিযোগের মধ্যেই চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোক বলে পরিচিত ও ১০ টাকার চালের ডিলার আলাউদ্দিনের কাছ থেকে ত্রাণের ২০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। ইউএনও ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা জব্দ করে ডিলার আলাউদ্দিনকে আটক করে নিয়ে যায় এবং শুধু ডিলারের বিরদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর গত ২৭ এপ্রিল ১২০ বস্তা চাল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
নোটিশে বলা হয়, উল্লিখিত ঘটনা বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার করা হয়। এরপরও ত্রাণ আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং ওই চেয়ারম্যানকেই প্রধান করে ত্রাণ বিতরণের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। ত্রাণের চাল চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি থাকলেও চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে এখন পর্যন্ত আইনের আওতায় আনা হয়নি বরং চেয়ারম্যান এখন পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে ত্রাণ কার্যক্রমে অনিয়ম করে যাচ্ছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া জনগণের বাড়ি ভাঙচুরসহ হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এমনকি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হলেও কোনো অজ্ঞাত কারণে এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি। এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে নাগরিকদের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, এছাড়া গত ২৯ এপ্রিল ত্রাণ আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন দেয়া হয়েছে। গত ৩ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ত্রাণ আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
নোটিশে দ্রুত ত্রাণ আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
এফএইচ/বিএ/এমএস