দেশে ফেরামাত্র পি কে হালদারকে গ্রেফতারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৪ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২০

প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর বিদেশে পাড়ি জমানো পি কে হালদার (প্রশান্ত কুমার হালদার) আগামী ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ফেরার জন্য টিকিট কেটেছেন। ওইদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটির হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। দেশে ফেরামাত্র তাকে গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আইনজীবীরা জানান, প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার দেশে ফিরে আসতে পারবেন। তবে তিনি দেশে ফেরার পর হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে গ্রেফতারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) সিংহভাগ ঋণের সুবিধাভোগী এ প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার।

জীবনের নিরাপত্তায় আদালতের হেফাজত চেয়ে এবং আত্মসাতের অর্থ উদ্ধারে সহযোগিতা করতে নিরাপদে দেশে ফেরার নিশ্চয়তা চেয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) হাইকোর্টের একই বিচারপতির বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন। আজ আদেশ দেয়া হয়।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আইএলএফএসএলের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন মো. খুরশীদ আলম খান।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, দুদকের চোখে ৩০০ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ মালিক পি কে হালদার বিমান থেকে দেশের মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেফাজতে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তিনি যাতে ‘নিরাপদে’ দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে পারেন, সেজন্য পুলিশ প্রধান, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আইএলএফএসএলের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে করা আবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসার জন্য তিনি টিকিট কেটেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। এছাড়া সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এরই মধ্যে গোপনে কানাডায় পাড়ি জমান পি কে হালদার। এরপর দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান শেষে তিনি দেশে ফিরতে চান এবং এ জন্য তার নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং একটি আবেদন জানায়।

সে আবেদনে বলা হয়, পি কে হালদার দেশে ফিরতে চান। এজন্য তিনি নিরাপত্তা চান। বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধ করতেই তার এ উদ্যোগ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পিকে হালদারসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দেন আদালত।

সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়ায় হাইকোর্টের আদেশ থেকে যায়। এসব আদেশের অনেক আগে থেকেই পি কে হালদার গোপনে দেশত্যাগ করে কানাডায় পাড়ি জমান।

এরও আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত আরেকটি আবেদন করেছিল আইএলএফএসএল হাইকোর্টের একই বেঞ্চে। সেদিন আদালত বলেছিলেন, পি কে হালদার কবে, কখন, কোন ফ্লাইটে দেশে ফিরতে চান, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানালে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ও দুদকসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।

শুনানিতে বিচারক এও বলেছিলেন, আত্মসাৎকারীরা টাকা ফেরত দিতে চাইলে সে সুযোগ যেমন থাকা দরকার, একইভাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাও প্রয়োজন।

বিদেশে থাকা পিকে হালদার গত ২৮ জুন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আইএলএফএসএল তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মালিকানার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে। তার অনুপস্থিতি ও দেশের মধ্যে সৃষ্ট ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে’ ওইসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ‘জটিল আকার’ ধারণ করেছে।

তিনি দেশে ফিরতে পারলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘সঙ্কট কেটে যাবে’ এবং মহামারির সময়ে দেশের অর্থনীতিতে ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ রাখতে পারবে বলে সেখানে দাবি করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, সেজন্য তিনি ‘ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে’ দেশে ফিরতে চান এবং তার সব প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আইএলএফএসএলসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দায়দেনা মিটিয়ে ফেলতে চান। পি কে হালদারের ওই আবেদন পাওয়ার পর তার জীবনের নিরাপত্তায় আদালতের হেফাজত চেয়ে আবেদন করে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড (আইএলএফএসএল)।

এর আগে আইএলএফএসএলে রাখা আমানতের টাকা ফেরতের নির্দেশনা চেয়ে সাত ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ২১ জানুয়ারি পি কে হালদার, তার মা, স্ত্রী, ভাই এবং ওই কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৯ জনের পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেয়। তাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে ওই নির্দেশ দেয়া হলেও পি কে হালদার ততদিনে লাপাত্তা হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর আসে।

এফএইচ/এসআর/এফআর/পিআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]