মানবতাবিরোধী অপরাধ

যশোরের ৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ২৫ অক্টোবর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৬ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
ফাইল ছবি

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় যশোরের বাঘারপাড়ার মো. আমজাদ হোসেন মোল্লাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

এ মামলার অন্য দুজন আসামি হলেন- আবুল হাসেম ওরফে কেরামত মোল্লা ও ফসিয়ার মোল্লা।

রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১৫ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

সাক্ষীর নিরাপত্তার সমস্যা হতে পারে- এ কারণে নাম প্রকাশ করেননি প্রসিকিউশন টিম। তবে সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) সাক্ষ্যগ্রহণ করার কথা রয়েছে আগামী ২৫ অক্টোবর। ওইদিন তার (আইও) জবানবন্দি পেশ করার কথা রয়েছে।

রোববার নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১৫ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর পরবর্তী দিন ঠিক করে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।

যশোরের বাঘারপাড়ার আমজাদ হোসেনসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে থেকে ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মামলার তদন্ত করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে ছয় খণ্ডের মোট ৩৬০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। ওইদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের আমজাদ রাজাকার নিজ বাড়িতে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন। ওই ক্যাম্পের সদস্যরা বহু মানুষকে নির্যাতন, খুন, গুমসহ নানাবিধ অত্যাচার করে।

১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট আমজাদ রাজাকারের নেতৃত্বে ১০-১২ জন একত্রিত হয়ে পার্শ্ববর্তী মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালি গ্রামের রজব আলীকে বাড়ি থেকে ধরে বাঘারপাড়ার চাঁদপুর গ্রামে নিয়ে আসে এবং ওই গ্রামের একটি আমবাগানে গামছা দিয়ে চোখ ও দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জবাই করে।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে খোকন বিশ্বাস বাদী হয়ে মাগুরার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শালিখা আমলি আদালতে মামলা করেন। পরে আদালতের বিচারক শম্পা বসু মামলাটি গ্রহণ করে তা ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে’ পাঠানোর নির্দেশনা দেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ মামলা গ্রহণ করেন।

ওই ঘটনা ছাড়াও আমজাদ রাজাক‍ারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট বাঘারপাড়ার উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মৃত শফিউদ্দীন বিশ্বাসের দুই ছেলে ময়েন উদ্দিন ও আয়েন উদ্দিনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতা পরবর্তীসময়ে যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে, আমজাদ সেই দলের নেতা হয়েছেন। সর্বশেষ জাতীয় পার্টি ছেড়ে ২০০০ সালে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হন তিনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় থাকছিলেন আমজাদ রাজাকার।

এফএইচ/এএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।