ফালুর অর্থপাচার মামলায় ফের তদন্তে দুদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২১ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২২
মোসাদ্দেক আলী ফালু

বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় ফের তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। অফশোর কোম্পানি খুলে ১৮৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগে এ মামলা করে দুদক। মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ সৈয়দ কামাল হোসেন এ আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

দুদকের আইনজীবী মীর আহম্মদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুদক তদন্ত প্রতিবেদনে কিছু ঘাটতি খুঁজে পেয়েছে। তাই মামলাটি অধিকতর তদন্ত করা প্রয়োজন। দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করে মামলাটি পুনতদন্তেন জন্য নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ সৈয়দ কামাল হোসেনের আদালতে এ আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী মীর আহম্মদ আলী সালাম। পরে ১ ডিসেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ফালুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করেন আদালত। এসময় ফালু পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। পুলিশ তাকে খুঁজে না পাওয়ায় পত্রিকায় প্রজ্ঞাপন প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ফালুর অর্থপাচার মামলায় ফের তদন্ত চেয়ে দুদকের আবেদন

এরপর চলতি বছরের ২৪ মার্চ ফালুকে পলাতক দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্রিকায় প্রজ্ঞাপন প্রকাশের নির্দেশ দিন আদালত।

মামলার অপর দুই আসামি আরএকে সিরামিকস লিমিটেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ কে ইকরামুজ্জামান এবং স্টার সিরামিকস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক সৈয়দ এ কে আনোয়ারুজ্জামান। তারা দুজনই জামিনে রয়েছেন।

এর আগে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে ফালুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মোসাদ্দেক আলী ফালু, একরামুজ্জামান ও আনোয়ারুজ্জামান ২০১০ সালে দুবাইয়ে আল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও থ্রি-স্টার লিমিটেড মিলে ডেভেলপমেন্ট ইউএই নামে অফশোর কোম্পানি খোলেন। এরপর তারা বাংলাদেশে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ১৮৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা দুবাইয়ে পাচার করেন। দুবাইয়ে ওই অর্থ উপার্জনের কোনো উৎস তারা দেখাতে পারেননি।

২০১৯ সালের ১৩ মে উত্তরা পশ্চিম থানায় ফালু ও অন্য তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুবাইয়ে ১৮৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আরও পড়ুন: অর্থপাচার : ফালুসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

মামলার এজাহারে বলা হয়, দুবাইয়ে পাচার করা ওই অর্থ উপার্জনের কোনো উৎস তারা দেখাতে পারেননি। ওই অর্থ কীভাবে উপার্জন করা হয়েছে তার কোনো তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে নেই। দুবাইয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার কথা তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে কখনো জানাননি বা কোনো ধরনের অনুমতি নেননি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে মোসাদ্দেক আলী ফালু ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ প্রক্রিয়ায় দেশে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে অফসোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

জেএ/ইএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।