আদালতের সব মন্তব্য সংবাদপত্রে প্রকাশ ঠিক হবে না


প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, আদালত শুনানির সময় অনেক রকম বক্তব্য মন্তব্য করেন। এ সমস্ত মন্তব্য আপনাদের কাগজে লিখে দেয়া সঠিক হবে না। মঙ্গলবার মীর কাসেম আলীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আপিলে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এগুলো লেখাও সঠিক হবে না। কারণ আমাদের বক্তব্য বিটুইন জাজেস ইনদি ল ইয়ার। আমরা যে বক্তব্যগুলো বলবো মনে করবেন সে গুলোই আদালতের বক্তব্য।’

প্রধান বিচারপতি প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটনি জেনারেল বলেন, মীর কাসেম আলীর মামলা এবং অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার কাজের ওপর আদালত খুবই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

গভীর অসন্তেুাষ প্রকাশ করেছেন এবং এ মর্মে একটি উক্তি করেছেন যে, যথেষ্ট খরচ হচ্ছে এদের পেছনে। কিন্তু সঠিকভাবে তারা মামলা তদন্ত পরিচলানা করছেন না বলে তাদের কাছে মনে হয়েছে। ইতোমধ্যে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলায়ও কিন্তু আদালত কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন।

তিনি বলেন, মীর কাসেম আলীর মামলাটিতেও শুনানির সময় আমাকে যথেষ্ট প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে যে, এ মামলার তদন্ত কাজ আরো সুষ্ঠুভাবে করা যেত। আরো ভালভাবে মামলাটি পরিচালনা করা যেত বলে আদালত অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

এ দুর্বলতার কারণে রায়ে কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমার মনে হয় না। কারণ অনেকগুলো চার্জ আছে। আদালত দেখবে রাষ্ট্রপক্ষ এবং প্রসিকিউশন পক্ষ সার্থকভাবে মামলটি পরিচলানা করতে সক্ষম হয়েছে। কতগুলো চার্জ আছে দেখবেন সঠিকভাবে হয়নি, সেটা আদালত তার সিদ্ধান্ত দেবেন। আমি মনে করি না সবগুলো চার্জের ব্যাপারেই কোন সার্থকতা নেই এ কথা বলা যাবে না।

প্রসিকিউশনের অদক্ষতায় তাদের সরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে আদালত মতামত দিয়েছেন এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালততো সব সময়ই চান যারা মামলা পরিচলনা করবেন তারা দক্ষ হোক এবং ভালোভাবে মামলা পরিচালনা করুক। আদালততো আইনজীবীদের সহায়তা চান মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে। আর এটিই স্বাভাবিক।

আদালত বলেছেন- আপনারা বিচার নিয়ে রাজনীতি করছেন এটা কোন প্রসঙ্গে বলেছেন জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, ‘না এটা এভাবে বলেননি। শুনেন, আদালত শুনানির সময় অনেক রকম বক্তব্য মন্তব্য করেন। এসমস্ত মন্তব্য আপনাদের কাগজে লিখে দেয়া সঠিক হবে না। এবং এগুলো লেখাও সঠিক হবে না। কারণ আমাদের বক্তব্য বিটুইন জাজেস ইনদি ল ইয়ার। আমরা যে বক্তব্যগুলো বলবো মনে করবেন সে গুলোই আদালতের বক্তব্য।’

আদালত ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, আপনি আপিল বিভাগে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না আমার শুনানির ব্যাপারে আদালত কোন রকম অসন্তোষ প্রকাশ করেননি।

মূল যুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মূল বক্তব্য ছিল, ডালিম হোটেল ছিল টর্চার ক্যাম্প এবং সেখানে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে তারাই আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছে। তাদের যে সমস্ত সাজেশন দেয়া হয়েছে সেখানে আসামিপক্ষ অনেকগুলো জিনিস স্বীকার করে নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আর তিনজন লোক যে মারা গেছে জসিম, কুন্ত সেন, রঞ্জিত দাস এই মৃত্যুগুলোকে তারা (আসামিপক্ষ) অস্বীকার করেনি। কাজেই এ মামলাতে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে মীর কাসেম আলী জড়িত ছিলেন কি না। চূড়ান্ত সাবমিশনের সময়েই আমরা দেখাবো মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে, তার নির্দেশে, উপস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে।

এফএইচ/এসএইচএস/আরআইপি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]