সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা

আসামি পাঙ্খা বেলালকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৩
নিহত সাংবাদিক মুজাক্কির/ ফাইল ছবি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার আসামি বেলাল ওরফে পাঙ্খা বেলাল ওরফে চায়না বেলালের জামিন মঞ্জুর করেননি হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা আবেদন শুনানি নিয়ে জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে বুধবার (১৮ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম গোলাম মোস্তফা তারা।

আদালতে আজ শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল এস এম গোলাম মোস্তাফা তারা, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মাজু মিয়া ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার শেখ হাফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন > কাদের মির্জা-বাদল গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ সাংবাদিকের মৃত্যু

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম গোলাম মোস্তফা তারা বলেন, নোয়াখালীর সাংবাদিক মুজাক্বির হত্যা মামলায় আসামি বেলালকে জামিন প্রশ্নে দেওয়া রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে আসামিকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। মামলাটি নিম্ন আদালতে তদন্তাধীন রয়েছে।

এর আগে নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে গত বছরের ১ সেপ্টম্বর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামি বেলাল। এরপর গত বছরের ২৪ অক্টোবর আসামি বেলালকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

আরও পড়ুন > সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলা পিবিআইতে হস্তান্তর

সেই রুল শুনানির ধারাবাহিকতায় আজ জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। এর ফলে বেলালকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় পুলিশ বেলালকে ২০২১ সালের ৭ মার্চ গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা ও তার বিরোধীপক্ষ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেখানে স্থানীয় সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কিরসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন অর্ধশতাধিক।

আরও পড়ুন > সাংবাদিক মুজাক্কিরকে নিয়ে বড় ভাইয়ের স্ট্যাটাস

বোরহান উদ্দিন মুজাক্কিরসহ গুলিবিদ্ধ কয়েকজনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে মুজাক্কিরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বোরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের বাবা মাওলানা নুরুল হুদা মো. নোয়াব আলী মাস্টার বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলাটি এখন পিবিআই তদন্ত করছে।

এফএইচ/বিএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।