বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের ইউনাইটেড লইয়ারর্স ফ্রন্ট ঘোষণা
সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে কনভেনার এবং অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীকে কো-কনভেনার করে ইউনাইটেড লইয়ারর্স ফ্রন্ট ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা।
সোমবার (১২ জুন) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ইউনাইটেড লইয়ারর্স ফোরামের কো-কনভেনার অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। এসময় অন্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনায় ছিল বিএনপি ও সমমনা সব রাজনৈতিক দল এবং বিরোধীদলীয় আইনজীবীদের নিয়ে ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্ট নামে একটি সংগঠন করার। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের হলরুমে এ ফ্রন্টের ঘোষণা দেওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার ও সুপ্রিম কোর্ট বারসহ দেশের সব আইনজীবী সমিতিকে স্বাধীন রাখা এবং সর্বোপরি আইনজীবীদের অধিকার-মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে সিনিয়র আইনজীবীরা, সুপ্রিম কোর্ট বারসহ সারাদেশের বারসমূহের সভাপতি-সম্পাদক এবং অন্যান্য পদে নির্বাচিত নেতারা ও বারসমূহে আইনের শাসন ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আইনজীবী সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৃহৎ পরিসরে আন্দেলনের প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে, যার নাম ‘ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্ট’।
এ ফ্রন্টের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য সম্বলিত বক্তব্য এবং কমিটি পরিচিতির জন্য এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
৩৬ সদস্য বিশিষ্ট এই আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ, ব্যারিস্টার এ.এম. মাহবুব উদ্দীন খোকন, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, অ্যাডভোকেট গরীব এ নেওয়াজ, অ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, অ্যাডভোকেট কে. এম. জাবির, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভূইয়া, অ্যাডভোকেট শাহ আহম্মেদ বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ড. গোলাম রহমান ভুইয়া, অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শফি উদ্দিন ভূইয়া, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, অ্যাডভোকেট গাজী মো. কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডেভোকেট এ.বি.এম. রফিকুল হক তালুকদার রাজাসহ ৩৬ জন।
আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ মোর্চার তিন দফা লক্ষ্য সম্পার্কে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিচার অঙ্গনের দুর্নীতির মূলোৎপাটনসহ সারাদেশের সব আইনজীবী সমিতিসমূহ যেন স্বাধীন ও নির্ভীকভাবে আইনজীবীদের সম্মান ও স্বার্থসংরক্ষণের জন্য সারা দেশব্যাপি সম্মানিত আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত করবে।
‘যেহেতু গত ১৫, ১৬ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বারে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই সাংবিধানিক সংকট পূরনের লক্ষ্যে বারের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ গত ৩০ মার্চ সংবিধানের ১৭(৩)(এ) অনুযায়ী তলবী সাধারণ সভার মাধ্যমে একটি অন্তবর্তীকালীন কমিটি ঘোষিত হয়। সেই সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার এম. আমির-উল-ইসলাম। সংবিধান অনুযায়ী এই কমিটি হচ্ছে বারের কমিটি। ইউএলএফ এই কমিটি অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট বারের কমিটিকে সব ধরনের কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়াও প্রত্যেক বার সমিতিতে যাতে আইনজীবীরা সুষ্টভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেই লক্ষ্যে প্রত্যেক বারে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলা।’
সংবাদ সম্মেলনে জয়নুল আবেদীন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস রাষ্ট্রের। এটি একটি সাংবিধানিক অফিস, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৪-তে পরিষ্কারভাবে বিবৃত আছে। অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলসহ অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সব আইন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যয় বহন করে রাষ্ট্রের জনগণ।
‘জনগণের করের টাকায় তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। তাই সম্মানিত আইন কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের মিছিলে বা বিশেষ কোন আইনজীবী সংগঠনের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারেন না। গত কয়েক মাসে তাদের এ ধরনের নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।’
কমিটির সব সদস্য এবং বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থক কয়েকশ আইনজীবী সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
এফএইচ/এমএইচআর/জিকেএস