হলফনামা
বরিশালে সম্পদে শীর্ষে টিপু দ্বিতীয় সরোয়ার পিছিয়ে রাজিব
বরিশাল জেলার ছয়টি নির্বাচনি এলাকায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৪৮ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু। জুলাই আন্দোলনের মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
কারাগারে থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া জাপা নেতা গোলাম কিবরিয়া টিপুর নগদ অর্থ ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬১ টাকা। এছাড়া পাঁচ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার ৮৮৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার স্ত্রীর নামে। স্থাবর সম্পদেও সবাইকে ছাড়িয়ে অনেক ওপরে কিবরিয়া টিপু। ১৮ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪২ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। স্ত্রীর নামে থাকা স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৭ টাকা।
টিপুর পর সবচেয়ে বেশি সম্পদে দ্বিতীয় স্থানে বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার। আট কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৫৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক এই বিএনপি নেতা। পেশায় ব্যবসায়ী ও কৃষক সরোয়ারের স্থাবর সম্পদের মূল্য তিন কোটি ৫৩ লাখ ১৯ হাজার ৫৬২ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর বিভাগকে দেওয়া হিসাবের বর্ণনায় নিজের ১১ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ৬০২ টাকার নিট সম্পদ থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের কামরুল ইসলামেরই শুধু রয়েছে কোটি টাকার সম্পদ। বরিশাল-৩ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সম্পদের পরিমাণ সাত লাখ টাকা। বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীমের স্ত্রীর রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সোনা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।
হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া ছয় প্রার্থীর সবাই ব্যবসায়ী। জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে চারজন শিক্ষক এবং একজনের আয়ের উৎস বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তাফসির করা।
বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদ বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের রাজিব আহসানের। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এই নেতার স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৩ লাখ টাকা। সম্পদে পেছানো থাকলেও ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি মামলার আসামি হয়েছেন বিএনপির এই নেতা। হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৮২টি।
সম্পদ এবং মামলায় বিএনপি নেতাদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। ৫ আগস্টের আগে এই নেতার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সংখ্যা ২৫টি। হলফনামায় এক কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার ৮৯৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।
জয়নুলের পরেই অবস্থান বরিশাল-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন সান্টুর। হলফনামায় নিজের নামে এক কোটি ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার তথ্য দিয়েছেন তিনি। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৯৫ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ। পেশা হিসেবে রাজনীতি ও সমাজসেবা উল্লেখ করা সান্টুর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ আট কোটি ৪২ লাখ ৩৪ হাজার ৪১৪ টাকা।
বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে সম্পদে চতুর্থ বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী সাবেক এমপি জহিরুদ্দিন স্বপন। পেশায় ব্যবসায়ী স্বপনের নিজের নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের মূল্য এক কোটি ৫২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬০ টাকা। দুই কোটি ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার স্ত্রীর। স্বপনের স্থাবর সম্পদের মূল্য দুই কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান তার অস্থাবর সম্পদের মূল্যমান দেখিয়েছেন এক কোটি ৭০ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫৫ টাকা। তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ টাকা।
শায়েখে চরমোনাই নামে পরিচিত ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম প্রার্থী হয়েছেন বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে। দুই হাজার ৪৪০ শতাংশ জমির মালিক মুফতি ফয়জুলের স্থাবর সম্পদের মূল্য তিন কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার ১২৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ টাকা রয়েছে তার। তবে অস্থাবর সম্পদে ফয়জুলকে টেক্কা দিয়েছেন তার স্ত্রী। হলফনামা অনুযায়ী ১৮৭ ভরি সোনা আর নগদ সাত লাখ ২০ হাজার টাকা মিলিয়ে ফয়জুলের স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
বরিশাল জেলার ছয়টি নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া আরও কয়েকজনের রয়েছে কোটি টাকার বেশি সম্পদ। তারা হলেন বরিশাল-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুলাদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সাত্তার খান এবং বরিশাল-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ এছাহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের।
তাদের মধ্যে মুফতি ফয়জুল করীম ও এসাহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের চরমোনাইয়ের বর্তমান পীর ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের আপন ভাই।
শাওন খান/এসআর/এএসএম