ত্বকে ব্রণের দাগ থাকলে ক্লিনজারে যেসব উপাদান খুঁজবেন
ব্রণ সেরে গেলেও মুখে থেকে যায় দাগ, কালচে ছোপ বা অসমান টেক্সচার। এই দাগ থেকে মুক্তি পেতে শুধু ক্রিম বা সিরাম যথেষ্ট নয়, সঠিক ক্লিনজার নির্বাচনও দাগ হালকা করতে বড় ভূমিকা রাখে।
তবে আপনার ত্বকের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক ফেসওয়াশ বা ক্লিনজারটি খুঁজে পাবেন কীভাবে? ক্লিনজার কেনার সময় লেবেলে কী দেখবেন? এসব প্রশ্ন নিয়ে আমরা অনেকেই বিভ্রান্ত থাকি। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী জেনে নিন – ক্লিনজারের লেবেলে কোন কোন উপাদান খুঁজবেন এবং সেগুলো কীভাবে কাজ করে।
১. স্যালিসাইলিক অ্যাসিড
তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য এটি কার্যকর। এটি ত্বকের ভেতরে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ পরিষ্কার করে পোরস খুলে দেয়। ফলে নতুন ব্রণ কমে এবং পুরোনো দাগ গাঢ় হওয়ার ঝুঁকি কমে।
২. গ্লাইকোলিক অ্যাসিড
এটি একটি আলফা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড (এএইচএ)। ত্বকের উপরের মৃত কোষ আলতোভাবে এক্সফোলিয়েট করে। নিয়মিত ব্যবহারে দাগ হালকা হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।

৩. ল্যাকটিক অ্যাসিড
সংবেদনশীল ত্বকের জন্য তুলনামূলক মৃদু এএইচএ এটি। ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বক মসৃণ করে, টেক্সচার উন্নত করে এবং হালকা পিগমেন্টেশন কমাতে সহায়তা করে।
৪. নিয়াসিনামাইড
এটি ভিটামিন বি৩-এর একটি রূপ। এটি ত্বকের প্রদাহ কমায়, তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং দাগের রঙ হালকা করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি স্কিন ব্যারিয়ারও মজবুত করে।
৫.আজেলাইক অ্যাসিড
ব্রণ-পরবর্তী দাগ ও লালচে ভাব কমাতে আজেলাইক অ্যাসিড কার্যকর। এটি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন, ফলে ব্রণ কমাতে ও দাগ হালকা করতে সহায়তা করে।
৬. ভিটামিন সি
ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ডার্ক স্পট ধীরে ধীরে কমাতে সহায়তা করে।

৭. অ্যালোভেরা এক্সট্র্যাক্ট
ত্বককে শান্ত রাখে ও জ্বালাপোড়া কমায়। ব্রণের কারণে হওয়া লালচে ভাব কমাতে উপকারী।
কেন ক্লিনজারে এসব উপাদান জরুরি?
ক্লিনজার ত্বকের প্রথম ধাপের যত্ন। এতে সঠিক উপাদান থাকলে এটি শুধু ময়লা পরিষ্কারই করে না, বরং ধীরে ধীরে দাগ কমানোর প্রক্রিয়াও শুরু করে। তবে অতিরিক্ত অ্যাসিডযুক্ত ক্লিনজার প্রতিদিন ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই নিজের ত্বকের ধরন বুঝে পণ্য নির্বাচন করা জরুরি। প্রয়োজনে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি ব্রণ ও দাগ কমাতে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড ও নিয়াসিনামাইডযুক্ত পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। একইভাবে মায়ো ক্লিনিক ব্রণ-পরবর্তী পিগমেন্টেশন কমাতে মৃদু এক্সফোলিয়েন্ট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছে।
ব্রণের দাগ কমাতে ধৈর্য জরুরি। সঠিক উপাদানযুক্ত ক্লিনজার বেছে নিলে ত্বক ধীরে ধীরে পরিষ্কার ও সমান টোন পেতে পারে। তবে ত্বকে অতিরিক্ত জ্বালা, শুষ্কতা বা অ্যালার্জি দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি, মায়ো ক্লিনিক
এএমপি/জেআইএম