ফুল আর শাড়ির মায়ায় অপরূপ রুনা খান
বাংলা বিনোদন অঙ্গনের অভিনেত্রীদের মধ্যে যাদের ফ্যাশন সেন্স আলাদা করে নজর কাড়ে, তাদের একজন রুনা খান। কখনও ঐতিহ্যের ছোঁয়ায়, কখনও আধুনিকতার মিশেলে, নিজের স্টাইলকে সবসময়ই অনন্যভাবে তুলে ধরেন তিনি। আর শাড়ির সাজে রুনা যেন অন্য এক সৌন্দর্যের নাম।
সম্প্রতি বাইফা অ্যাওয়ার্ডস নাইটে তার নতুন লুক সেই কথাই আবারও প্রমাণ করল। সাদা ফুল, নরম রঙের শাড়ি আর সফট গ্ল্যামের মেকওভারে তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন এক শান্ত অথচ দীপ্তিময় উপস্থিতি।
প্রথম দেখাতেই নজর আটকে যায় তার শাড়ির রঙে। এটি ঠিক ধূসর নয়, আবার পুরোপুরি লাতে শেডও নয়। বরং খুব হালকা প্যাস্টেল ধূসর আর নরম লাতে রঙের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক স্বপ্নিল আবহ। এই ধরনের রঙ সাধারণত খুব বেশি চোখে পড়ে না, কিন্তু সঠিকভাবে বহন করতে পারলে তা ব্যক্তিত্বকে অন্য মাত্রা দেয়। রুনা সেই কাজটিই করেছেন নিখুঁতভাবে।
ফ্লোই ফেব্রিকের শাড়িটি চলার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি করছিল এক ধরনের নরম সৌন্দর্য। শাড়িজুড়ে একই কালার প্যালেটের স্টোন ও স্বচ্ছ চুমকির সূক্ষ্ম কাজ ছিল চোখে পড়ার মতো।
কোথাও অতিরিক্ত চাকচিক্য নেই, আবার একেবারে সাধারণও নয়। বরং আলো পড়লে শাড়ির ওপর ছোট ছোট ঝিলিক তৈরি হচ্ছিল, যা পুরো লুককে দিয়েছে অভিজাত আবেদন। সরু স্টোনের বর্ডার শাড়িটিকে আরও পরিপাটি ও এলিগ্যান্ট করে তুলেছে।
এই লুকের আরেকটি আকর্ষণ ছিল ব্লাউজ। শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্যাকলেস ব্লাউজে ছিল স্ট্রিং ডিটেইলিং, যা পুরো সাজে যোগ করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। অনেক সময় ব্যাকলেস ডিজাইন খুব বেশি গ্ল্যামারাস হয়ে যেতে পারে, কিন্তু এখানে সেটি ছিল পরিমিত ও রুচিশীল। ফলে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সুন্দর ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
তবে পুরো সাজের প্রাণ হয়ে উঠেছিল খোঁপায় জড়ানো সাদা ফুলের গাজরা। এই একটি অনুষঙ্গ যেন পুরো লুককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সাদা ফুলের সৌন্দর্যে ছিল একধরনের শান্ত, নির্মল আবেদন, যা রুনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে গেছে। বর্তমানে নানা ধরনের হেয়ার অ্যাকসেসরির ট্রেন্ড থাকলেও তাজা ফুলের আবেদন যে কখনও পুরোনো হয় না, সেটিই যেন মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
অলংকারের ক্ষেত্রেও ছিল সংযমী কিন্তু স্টাইলিশ নির্বাচন। পার্ল ড্রপের সোনালি মাঝারি ঝুমকা মুখের গড়নের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়েছে। খুব ভারী গয়না ব্যবহার না করেও কীভাবে একটি লুককে সম্পূর্ণ করা যায়, সেটির সুন্দর উদাহরণ এটি। গলার কাছে ছোট স্টোন ডিটেইলিং পুরো সাজে সূক্ষ্ম ঝলক যোগ করেছে।
মেকওভারের দিক থেকেও রুনা ছিলেন একেবারে সফট গ্ল্যাম লুকে। বর্তমানে অতিরিক্ত কনট্যুর বা ভারী মেকআপের বদলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার যে ধারা চলছে, রুনার এই সাজ ছিল তারই নিখুঁত প্রতিফলন।
চোখে সফট লাইনের আইলাইনার ও মাসকারা ব্যবহার করা হয়েছে খুব পরিমিতভাবে। এখানে স্মোকি আইয়ের নাটকীয়তা ছিল না, বরং ছিল সতেজ ও কোমল আবেদন। হালকা শিমারের ব্যবহার চোখে এনে দিয়েছে উজ্জ্বলতা।
গোলাপি ব্লাশ মুখে যোগ করেছে প্রাণবন্ত আভা, আর ন্যুড পার্পল-পিংক লিপস পুরো মেকআপকে করেছে আরও পরিণত ও মার্জিত। এমন লিপ শেড সাধারণত সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায় এবং মুখে এনে দেয় স্বাভাবিক সৌন্দর্য।
দুই হাতে দুটি বড় গোল স্টেটমেন্ট আংটি ছিল সাজের আরেকটি আকর্ষণ। ছোট ছোট ডিটেইলের মধ্যেও যে স্টাইল লুকিয়ে থাকে, এই আংটিগুলো যেন তারই উদাহরণ। পুরো লুকে কোথাও অতিরিক্ত কিছু ছিল না, আবার কোথাও কমতিও চোখে পড়েনি।
সব মিলিয়ে বাইফা অ্যাওয়ার্ডস নাইটে রুনা খান প্রমাণ করলেন, সৌন্দর্য মানেই কেবল ঝলমলে সাজ নয়। কখনও কখনও নরম রঙ, পরিমিত গ্ল্যাম আর সাদা ফুলের মায়াই একজন মানুষকে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল করে তোলে। তার এই লুক নিঃসন্দেহে ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণার নতুন নাম।
জেএস/