হাঁটার অভ্যাসই বদলে দিতে পারে আপনার জীবন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৯ পিএম, ১৫ মে ২০২৬
ছবি: এআই

ব্যস্ত জীবনের ভেতর নিজেকে সুস্থ রাখা এখন অনেকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। অফিস, পড়াশোনা বা দৈনন্দিন দায়িত্বের চাপে শরীরচর্চা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। কিন্তু খুব সহজ একটি অভ্যাসহলো প্রতিদিন হাঁটা। আপনার জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দিনে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা শরীর ও মন দুটাই ভালো রাখার জন্য যথেষ্ট। স্মার্টওয়াচে ১০ হাজার কদমের লক্ষ্য পূরণ করাও অনেকের জন্য এখন জনপ্রিয় একটি রুটিনে পরিণত হয়েছে। তবে লক্ষ্য সংখ্যার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস তৈরি করা।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে হাঁটার ভূমিকা

হৃদরোগ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। অনিয়মিত জীবনযাপন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। হাঁটা এই ঝুঁকি কমানোর একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়। হৃদপিণ্ড  নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। ফলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং হৃদযন্ত্র আরও দক্ষভাবে কাজ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

হাড় ও পেশীকে শক্তিশালী করে

হাঁটা শুধু হৃদযন্ত্র নয়, শরীরের পেশী ও হাড়ের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত হাঁটার ফলে পায়ের পেশী শক্ত হয় এবং শরীরের ভারসাম্য উন্নত হয়। এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম সহজ হয়ে যায় এবং স্ট্যামিনাও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি হাঁটা হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের রোগের ঝুঁকি কমে।

jago

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হজমে সহায়তা

অনেকেই দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার কারণে ওজন বৃদ্ধি ও পেটের চর্বির সমস্যায় ভোগেন। হাঁটা শরীরের ক্যালরি খরচ বাড়ায়, ফলে অতিরিক্ত চর্বি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। বিশেষ করে খাবারের পর ১০মিনিট হাঁটা হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে খাবার দ্রুত শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে না।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর

হাঁটার অন্যতম বড় উপকার হলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। খাবারের পর ১০-১৫ মিনিট হাঁটলে গ্লুকোজ দ্রুত ব্যবহার হয় এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বৃদ্ধি পায়। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। যারা নিয়মিত হাঁটেন, তাদের শরীরে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা তুলনামূলক সহজ হয়।

jago

মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে

শুধু শরীর নয়, হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। একটানা ৩০ মিনিট হাঁটতে পারেন, আবার সারাদিনে ১০ মিনিট করে ভাগ করেও হাঁটা সম্ভব। হাঁটার সময় শরীরে এন্ডরফিন ও সেরোটোনিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা স্ট্রেস, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি প্রকৃতির মধ্যে হাঁটার ফলে মন শান্ত হয় এবং মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। ফলে মনোযোগ ও সৃজনশীলতাও বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিদিন মোট ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করা উচিত।

ভালো ঘুম নিশ্চিত করে

নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীর পর্যাপ্ত পরিশ্রম পায়, যার কারণে রাতে ঘুম সহজে আসে এবং ঘুম গভীর হয়। ভালো ঘুম শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং পরের দিন কাজের শক্তি বাড়ায়। এছাড়া নিয়মিত হাঁটা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করে।

হাঁটার আগে ও পরে করণীয়

হাঁটা শুরুর আগে ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো উচিত, যাতে শরীর প্রস্তুত হয়। হাঁটা শেষে হঠাৎ থেমে না গিয়ে কিছুক্ষণ ধীর গতিতে হাঁটা ভালো। এরপর হালকা স্ট্রেচিং করলে পেশী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। আরামদায়ক পোশাক ও উপযুক্ত জুতা ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক,মিডিয়াম, টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।