মরু প্যাসেঞ্জার : সমকালীন সমাজের আয়না

সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:২১ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০

৩১টি গল্প নিয়ে কথাশিল্পী মাসউদুল কাদিরের গল্পগ্রন্থ ‘মরু প্যাসেঞ্জার’ প্রকাশিত হয়েছে। বইয়ের প্রথম দুটো গল্পই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নির্ভর। গল্পে গল্পে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেমন এঁকেছেন, তেমনই সমাজচিত্রও দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। কথা বলেছেন ভণ্ড-প্রতারকদের বিরুদ্ধেও। যারা মহিলা পীর সেজে সর্বত্র সমাজকে করছে কলুষিত, যারা সমাজে কালো ছায়া—তাদের বিরুদ্ধেও গল্পে গল্পে জবাব দিয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল গল্পকার মাসউদুল কাদির।

মরু প্যাসেঞ্জারে তরুণদের জন্য আছে শিল্পিত আশাবাদ। চোখে যেন দূরবীন লাগিয়ে তিনি দেখিয়েছেন পিছিয়ে পড়া যাবে না। জীবন রাঙাতে হলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের প্লট নিয়েও বক্তব্য উঠে এসেছে তার গল্পে। মরু প্যাসেঞ্জারকে বলা যায় সমাজের আয়না।

অপরদিকে একজন শিশু হাফেজের বিশ্বজয়কে গল্পের ভেতর দিয়ে এমনভাবে চিত্রায়ণ করেছেন, যা দেশের জন্য কিছু একটা করতে উদ্বুদ্ধ করবে পাঠককে। মায়ের ওষুধ কেনার জন্য যে কিশোর চুরি করতে এসে ধরা পড়ল, সে সূত্র ধরেই চিকিৎসা হলো কিশোর চোরের মায়ের। এ এক দারুণ অনুভূতি। অনেক খারাপ কাজের পেছনেও কোনো ভালো উদ্দেশ্য থাকতে পারে—গল্পটি না পড়লে তা সহজে বোঝা যায় না।

গল্প লেখার কায়দাটা বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন লেখক মাসউদুল কাদির। তার গল্পের বিষয়বস্তুও ব্যতিক্রম। হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, ঝুট-ঝামেলা থেকে শুরু করে প্রতিদিন নানা কিছুর মুখোমুখি হই আমরা। এই জীবনকে দেখা এবং এই দেখা থেকে গল্প তৈরি, কারিগর দক্ষ না হলে সম্ভব নয়। মাসউদুল কাদিরের গল্পগুলো কথাসাহিত্যে তার দক্ষতা অর্জনের কথাই বলে।

জীবনের ছোট ছোট ঘটনাকে তিনি অতি উপাদেয়ভাবে পাঠকের সামনে হাজির করেছেন। আমার বিশ্বাস, পাঠক এখান থেকে তাদের পছন্দমতো রসাস্বাদন করে নিতে পারবেন।

বইটি বের হয়েছে আনোয়ার লাইব্রেরি থেকে। প্রচ্ছদ করেছেন আবুল ফাতাহ। নামলিপি করেছেন কাজী যুবাইর মাহমুদ। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৩৪০ টাকা।

আলোচক : আদিল মাহমুদ

এসইউ/জেআইএম