৩০০ বই বিক্রি হলেই জনপ্রিয় লেখক বলা হয় : কিঙ্কর আহসান

সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৩ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০২০

সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক ও ঔপন্যাসিক কিঙ্কর আহসান। বিজ্ঞাপন নির্মাণ, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ডকুমেন্টরি নির্মাণের পাশাপাশি লেখালেখি করেন। সব কিছু ছাপিয়ে লেখক পরিচয়টা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। স্বপ্ন দেখেন, পৃথিবী একদিন বইয়ের হবে। তার ১৩তম বই ‘মেঘডুবি’ পেয়েছে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা। করোনার ভয়াবহ সময়েও ঘরে বসেই চলছে তার কাজ। বইয়ের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইসমাইল উদ্দীন সাকিব-

১ম বইয়ের লেখক কিঙ্কর আহসান ও ১৩তম বইয়ের লেখক কিঙ্কর আহসান-এর মাঝে কতটা পার্থক্য দেখছেন?
কিঙ্কর আহসান: পরিবর্তন দুটো জায়গায়। আমার পাঠকসংখ্যা বেড়েছে এবং আমি আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত।

‘মেঘডুবি’ বইতে পাঠক কতটা ডুব দিয়েছে?
কিঙ্কর আহসান: করোনার ঘরবন্দি সময়ে বইটি অনেকেই কাছে টেনে নিয়েছেন। যারা পড়েছেন; তারা আমাকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আমি মনে করি, নেতিবাচক মন্তব্যও প্রয়োজন। এতে লেখক নিজেকে শুদ্ধ করতে পারেন।

kinkor-2

আপনার স্লোগান ‘পৃথিবী বইয়ের হোক’। নিজের বইকে কতটা বাংলাদেশের করতে পেরেছেন?
কিঙ্কর আহসান: ১৭ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ৩০০ কপি বই বিক্রি হলে তাকে জনপ্রিয় লেখক হিসেবে ধরা হয়। তাই আমাকেও অনেকেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক ভাবেন। বই ছড়ানোর জন্য এ স্লোগানে যে লড়াইটা করছি, তার সিকিভাগও এখনো করতে পারিনি। আমি সময়ের অপেক্ষায় আছি, একদিন তা পূরণ হবেই।

বর্তমানে বই বিক্রির সাথে সেলিব্রেটি হওয়ার একটি সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?
কিঙ্কর আহসান: ইতিবাচক দিক হলো- তিন বছর আগে আমার বই ১ হাজার কপি বিক্রি হবে এটি ভাবা যেত না। আর এখন ১০ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে বললে বোঝা যায় পাঠকসংখ্যা বেড়েছে। যা আমাকে পার্ট টাইম থেকে ফুল টাইম লেখক হতে অনুপ্রাণিত করে। আর নেতিবাচক দিক হলো- সেলিব্রেটি নামক মানুষটি পাঠকের সাথে নিজের একটি সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছেন, যা আমরা পারিনি বলে পাঠকের সাথে আমাদের এতটা দূরত্ব। এক্ষেত্রে দায়ভার লেখকদেরই নিতে হবে।

kinkor-3

আত্ম-উন্নয়নমূলক বইগুলো বাজার দখল করছে বলে অনেকেই তা সাহিত্যের জন্য ক্ষতিকর মনে করছেন। আপনি কি ভাবছেন?
কিঙ্কর আহসান: তাদের স্টলে লম্বা লাইন থাকে আর সাহিত্যিকদের স্টলে থাকে না বলে আমাদের মনে একধরনের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। আমরা পাঠকদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারিনি, এটি আমাদের ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা। পাঠকদের উপন্যাস, গল্প, সৃজনশীল মৌলিকতার প্রতি আগ্রহী করতে আমাদেরই কথা বলতে হবে।

লেখক হিসেবে পরিবার শুরুতে সমর্থন না দিলেও বর্তমানে কতটা দেয়?
কিঙ্কর আহসান: আমি ভালোবাসার কাঙাল। মানুষের যত ভালোবাসা পেয়েছি তা লেখালেখির মাধ্যমে। তাছাড়া এ লেখালেখি দিয়ে আমার আয় হয় সবচেয়ে বেশি। মানুষের ভালোবাসা দেখে বাবা এখন বলেন, ‘কিঙ্কর, তুই হয়তো লেখক হবি বলেই জন্ম নিয়েছিলি।’

লেখালেখির পাশাপাশি বর্তমানে আর কী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন?
কিঙ্কর আহসান: চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করি বলেই অফিসে ব্যস্ত থাকতে হয় বেশি। চাকরি ছেড়ে দিয়ে আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমি ফুল টাইম লেখক হতে চাই।

kinkor-3

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
কিঙ্কর আহসান: আগামী বইমেলায় তিনটি বই আসছে- ‘মকবরা’, ‘বাঘবিধবা’ ও ‘জলপড়ানি’। বইগুলো নিয়ে কিছু বিশেষ পরিকল্পনা আছে। মুম্বাই থেকে হিন্দিতে আমার বই থেকে একটি চিত্র নির্মাণ কাজ হচ্ছে এবং একটি ফিচার ফিল্ম হবে। ‘কাদের আইসক্রিম’ যে শর্ট ফিল্মটি নির্মাণ করা হয়েছে, তা কিছু আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভালে দেব এবং দর্শকদের সামনে কিভাবে উপস্থাপন করব, তার পরিকল্পনা চলছে।

ধন্যবাদ, আপনার মূল্যবান সময় বিনিময়ের জন্য
কিঙ্কর আহসান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

এসইউ/এএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]