‘বাংলাদেশ : উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’: পাঠককে আলোড়িত করবে

ড. মিল্টন বিশ্বাস
ড. মিল্টন বিশ্বাস ড. মিল্টন বিশ্বাস , অধ্যাপক, কলামিস্ট
প্রকাশিত: ১০:৫১ এএম, ২৬ জুলাই ২০২১

এ কে আব্দুল মোমেন (জন্ম ১৯৪৭-), বিশ্ববাসীর কাছে তিনি পরিচিত শেখ হাসিনা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে। কিন্তু তিনি যে একজন নিষ্ঠাবান লেখক সে সংবাদ দেশের খুব কম পাঠকই জানেন। তবে আমরা যারা ‘কলাম’ লিখি তারা সকলে তাঁর লেখার সঙ্গে পরিচিত। বলাবাহুল্য, মন্ত্রী হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি একজন কলাম লেখক। অবশ্য তাঁর লেখার সঙ্গে অধিকাংশেরই পরিচয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল কিংবা আওয়ামী লীগের দলীয় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে নানা সময়ের নানা ঘটনাজারিত লেখা নিয়ে এ. কে. আব্দুল মোমেনের একাধিক গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষত আশির দশক থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ-চার দশকেরও বেশি সময়ে দেশি-বিদেশি নানা জার্নাল, প্রিন্ট কিংবা অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত লেখার সংকলন হলো ‘বাংলাদেশ : উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ গ্রন্থটি।

এ. কে. আব্দুল মোমেন কেবল মন্ত্রী কিংবা লেখক নন তিনি অনেক পরিচয়ে গৌরবান্বিত। তিনি সংগঠক, সম্পাদক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, রাষ্ট্রদূত, প্রশাসক, অধ্যাপক ও রাজনীতিবিদ। তিনি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি। দীর্ঘ সাড়ে ৩৭ বছর বিদেশে বসবাস করে ২০১৫ সালে ছয় বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে সস্ত্রীক বসবাস শুরু করেন। তিনি ২০১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২. ‘বাংলাদেশ : উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ গ্রন্থে লেখক এ. কে. আব্দুল মোমেন একটি কালপর্বে দাঁড়িয়ে নিজের বিশ্ব ও দেশকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেই নিবিড় দৃষ্টি প্রসারিত হয়েছে আশি ও নব্বই দশকের স্বৈরশাসকের অপতৎপরতায়, ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যের পরিসরে, বিএনপি-জামায়াতের অপকর্মের বিবরণে এবং ২০০৬ সালের পর সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যন্ত। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানাকারীদের নিয়ে তিনি একাধিক প্রবন্ধে যৌক্তিক অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আবার প্রবাসীদের দুঃখ-কষ্ট ও দেশের উন্নয়নে তাদের অবদানের বিস্তৃত বিবরণ রয়েছে আলোচ্য গ্রন্থে।

এদেশের অগ্রগতিতে বিএনপি শাসকদের নেতিবাচক মনোভঙ্গি আর শেখ হাসিনা সরকারের আন্তরিকতাও তাঁর বিশ্লেষণে উদঘাটিত হয়েছে। বিশেষত শিশু ও নারী পাচারের বিষয়ে তিনি বিদেশি রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভূমিকার সঙ্গে এদেশের সরকারের মনোভাবের পরিচয় তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ নিয়ে লেখকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির অনুপুঙ্খ বিবরণ আছে এ গ্রন্থে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-সংগ্রাম এ. কে. আব্দুল মোমেনের কলমে বিবৃত হয়েছে এদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সম্ভাবনাকে সামনে রেখে। বেশকিছু প্রবন্ধে লেখক উন্নয়নের অন্তরায়সমূহ চিহ্নিত করেছেন। অগ্রগতির সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশও তিনি উন্মোচন করেছেন। উপরন্তু বাংলাদেশকে প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং পশ্চাৎপদে টেনে নিয়ে যেতে চাওয়া মানুষের কর্মকাণ্ডের স্বরূপ পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন নির্ভীক চিত্তে।

৩. ২৫টি নিবন্ধের সংকলন ‘বাংলাদেশ : উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। গ্রন্থভুক্ত লেখাগুলো যথাক্রমে- ‘জরুরি অবস্থায় নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না’, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময়’, ‘যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন ও মার্কিন নাগরিকদের অবদান’, ‘বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের লক্ষ্য : একটি সমীক্ষা’, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস ও সমাধান, জনস্বার্থে ডিগ্রি না রাজনীতি’, ‘নারী ও শিশু পাচার : ক্যামেল জকি’, ‘নারী ও শিশু পাচার : পাকিস্তানের পতিতালয়’, ‘বাংলাদেশের বর্তমান সরকার : সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা’, ‘স্মৃতির মণিকোঠায় মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো’, ‘উনসত্তরের গোলটেবিল বৈঠক এবং বঙ্গবন্ধুর আস্থা অর্জন’, ‘বাংলাদেশ ও সৌদি আরবে ধর্মের আদব-কায়দা’, ‘মুসলমানদের দুর্দিন ও তাদের করণীয়’, ‘বাংলাদেশ ও আমেরিকা : দুই দেশের দুই নিয়ম’, ‘বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের জন্যে সরকার কেন এত উদগ্রীব’, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন : ১৯৯১ থেকে ১৯৯৯’, ‘নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্যে জরুরি অবস্থা রাখতেই হবে’, ‘হংকং ও বাংলাদেশ : একটি সমীক্ষা’, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির খসড়া’, ‘সংস্কার-এ নাটকের উদ্দেশ্য কী ?’, ‘হতভাগা প্রবাসী বাংলাদেশ’, ‘প্রবাসী সম্প্রদায় : ত্যাগ ও সৃষ্টিশীল নেতৃত্বের পুরোধা’, ‘লস এঞ্জেলসে ষাট ঘণ্টা’, ‘সত্যের কি মৃত্যু হয় ?’, ‘ঢাকায় প্রথম এনআরবি সম্মেলন : এক সার্থক আয়োজন’।

এই লেখাগুলো পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছে এ. কে. আব্দুল মোমেন একজন দেশপ্রেমিক লেখক, একজন মানবতাবাদীও। তিনি যখন প্রবাসীদের নিয়ে কথা বলেন কিংবা ধর্ম নিয়ে যুক্তিবাদী বাক্যবিন্যাস করেন তখন তাঁর বক্তব্যগুলো আমার কাছে নতুন মনে হয়। কয়েকদিন আগে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনলাইন সেমিনারে যোগ দিয়েছিলাম যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের টিকে থাকার চ্যালেঞ্জগুলো উপস্থাপন করা হলো BASUG-Diaspora and Development নামক সংগঠনের তরফ থেকে। ওই আলোচনায় কেবল ইউরোপে অবস্থানরত প্রায় কোটির কাছে বাংলাদেশীদের সমস্যা নিয়ে মতামত তুলে ধরা হয়।

প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থান করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে রেমিট্যান্স জোয়ারে যে অবদান রাখছে সে তুলনায় দেশ থেকে কিংবা বিদেশের মাটিতে দেশের দূতাবাস থেকে তারা সহযোগিতা পাচ্ছে কম। আশির দশক থেকে এসত্য এ. কে. আব্দুল মোমেন তুলে ধরেছেন তথ্য-প্রমাণসহ এবং বিদেশে বাংলাদেশীদের সংগঠনগুলো এক্ষেত্রে যে ভূমিকা রাখছে তাও লিখেছেন। একইসঙ্গে সংকট নিরসনে নিজের প্রচেষ্টার কথাও বলেছেন। ‘হতভাগা প্রবাসী বাংলাদেশ’, ‘প্রবাসী সম্প্রদায় : ত্যাগ ও সৃষ্টিশীল নেতৃত্বের পুরোধা’, ‘সত্যের কি মৃত্যু হয় ?’ এ ধরনের লেখা। এ ধারার আরো একটি লেখা হলো-‘ঢাকায় প্রথম এনআরবি সম্মেলন : এক সার্থক আয়োজন’।

‘বাংলাদেশ : উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ গ্রন্থের একটি বৈশিষ্ট্য হলো লেখকের নিজের জবানে বা উত্তম পুরুষের ঢংয়ে বিষয় উপস্থাপন। বিশেষ করে মানবিক ইস্যুগুলোতে তিনি নিজের কথা বলেছেন। জাতিসংঘের কথা যেমন এসেছে তেমনি তাঁর বন্ধুস্থানীয়দের কথাও। বিদেশে অবস্থানের সময় বাংলাদেশের নারী ও শিশু পাচার নিয়ে লেখনি ধারণ করে রাষ্ট্র, সরকার ও সামাজিক সংগঠনসমূহের কাজকে চুলচেরা বিচার করেছেন। প্রাবাসীদের স্বার্থ সম্পর্কে যেমন সোচ্চার এক্ষেত্রে তেমনি তিনি মানবিকও। ঘটনার পর ঘটনার দৃষ্টান্ত দিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় তাঁর আন্তরিকতা অনন্য।

কলামের একটি বৈশিষ্ট্য হলো সমকালীন ইস্যুতে লেখকের নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করা। আলোচ্য গ্রন্থে সময়ের ছাপ নিয়ে বেশকিছু নিবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছে। যার আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বরং ইতিহাসের উপকরণ হিসেবে এই লেখাগুলো গবেষকদের কাজে লাগবে। বিশেষত সামরিক সরকারের অধীনে দেশের যে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় না কিংবা জরুরি অবস্থায় নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না- এটা স্পষ্ট করেই তিনি প্রকাশ করেছেন। ‘বাংলাদেশের বর্তমান সরকার : সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা’, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময়’, ‘বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের লক্ষ্য : একটি সমীক্ষা’ উল্লেখযোগ্য লেখা।

এ. কে. আব্দুল মোমেন মনেপ্রাণে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রত্যাশা করেন। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেমন সন্ত্রাস কামনা করেন না তেমনি জনস্বার্থে ডিগ্রি না রাজনীতি নিয়ে কথা বলার সময় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন- ‘সফল রাজনীতিবিদ হতে হলে তাকে বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করতে হবে তা মোটেই ঠিক নয়।’(পৃ ১২১) রাজনীতি ও প্রশাসন যন্ত্র নিয়েও তিনি ভেবেছেন এদুটি প্রবন্ধে-‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির খসড়া’ও ‘সংস্কার-এ নাটকের উদ্দেশ্য কী?’

আলোচ্য গ্রন্থের আরেকটি বিশিষ্টতা হলো তুলনামূলক আলোচনা। বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করে পাঠককে নিজের দেশের সমকালীন অবস্থা পরিষ্কার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য লেখক তুলনা করেছেন ভিন্ন দেশের অবস্থার সঙ্গে। যেমন ধর্ম নিয়ে কথা বলার সময় ‘বাংলাদেশ ও সৌদি আরবে ধর্মের আদব-কায়দা’ রচনা করেছেন তেমনি সামাজিক অবস্থা নির্ণয়ে ‘বাংলাদেশ ও আমেরিকা : দুই দেশের দুই নিয়ম’, ‘হংকং ও বাংলাদেশ : একটি সমীক্ষা’ প্রভৃতি রচনাগুণে অভিনব। এসব লেখায় লেখকের রসবোধও অভিব্যক্ত হয়েছে। পথিকের দৃষ্টিতে দেখা ও রসের বর্ণনা আছে-‘লস এঞ্জেলসে ষাট ঘণ্টা’ লেখায়।

লেখকের স্মৃতিসত্তার জাগরণ অত্যন্ত উজ্জ্বল। ‘উনসত্তরের গোলটেবিল বৈঠক এবং বঙ্গবন্ধুর আস্থা অর্জন’ শীর্ষক রচনায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আপোসহীন আদর্শকে তুলে ধরেছেন। সেসময় লেখক পশ্চিম পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এই স্মৃতিচারণে নাটকীয়তা আছে, আছে বাংলাদেশ থেকে প্রধান নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সেখানে উপস্থিতি ও তাঁর যোগাযোগ সূত্রে আস্থা স্থাপনের বিবরণ। তবে ২০ পৃষ্ঠাব্যাপী ‘স্মৃতির মণিকোঠায় মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো’ লেখাটি একটি জীবন্ত দলিল। এই লেখায় লেখক এ. কে. আব্দুল মোমেন সংকটময় পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ব্যক্ত করেছেন।

লেখাটির ভেতর স্বতন্ত্র একটি গ্রন্থ রচনার বীজ লুকিয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে নিশ্চয় তিনি একটি আলাদা বই আমাদের উপহার দিতে পারবেন। ‘যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন ও মার্কিন নাগরিকদের অবদান’ এটিও তাঁর স্মৃতি জারিত লেখা। এ. কে. আব্দুল মোমেন বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা সরকারের একনিষ্ঠ সমর্থক। এজন্য যখন শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী- সবসময় তিনি দল ও সরকার পরিচালনায় নেপথ্যে থেকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও উন্নয়ন দর্শন নিয়ে নিরপেক্ষ মূল্যায়নও করেছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে দায়িত্ব পালন করায় বিশ্বের মোড়ল দেশগুলোর বিশ্বনীতির স্বরূপও তিনি তুলে ধরেছেন।

এ. কে. আব্দুল মোমেন একজন অর্থনীতিবিদ। এজন্য একাধিক প্রবন্ধে দেশের অর্থনীতি, পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার অবতারণা করেছেন। এসব রচনা তথ্যনিষ্ঠ এবং বিশ্লেষণঋদ্ধ। ‘তিনি ভিত্তিহীন বাগাড়ম্বরে বিশ্বাস করেন না, তাই পর্যাপ্ত তথ্যের সমাবেশে, বিশ্লেষণের গভীরতায় উন্মোচন করে চলেন বাংলাদেশের আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক চালচিত্র। অর্থনীতি ও উন্নয়ন তাঁর চিন্তার এক প্রধান কেন্দ্র কিন্তু এই বিষয়কে সংখ্যা ও সারণির ধূম্রজালে আবদ্ধ না রেখে তিনি দান করেন সজীব গন্তব্য।’ প্রমাণ রয়েছে এদুটি লেখায়- ‘বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের জন্যে সরকার কেন এত উদগ্রীব’, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন : ১৯৯১ থেকে ১৯৯৯।’

৪. গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধগুলো পাঠ করলে একটি সময়ের চিত্র যেমন স্পষ্ট হয় তেমনি বাংলাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। এককথায় চিন্তার স্বচ্ছতায়, সহজ-সাবলীল ভাষার সৌন্দর্যে, বিষয়-উপস্থাপনের কুশলতায় এবং মননশীলতায় এ. কে. আব্দুল মোমেন রচিত ‘বাংলাদেশ : উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ গ্রন্থটি পাঠককে আলোড়িত করবে নিঃসন্দেহে। গ্রন্থটির বহুল প্রচার কাম্য।

(বাংলাদেশ : উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, এ. কে. আব্দুল মোমেন, অন্যপ্রকাশ, ২০১৯, প্রচ্ছদ : সব্যসাচী হাজরা, পৃষ্ঠা: ১৬০, মূল্য : ৩৫০ টাকা।)

এইচআর/জেআইএম

আলোচ্য গ্রন্থের আরেকটি বিশিষ্টতা হলো তুলনামূলক আলোচনা। বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করে পাঠককে নিজের দেশের সমকালীন অবস্থা পরিষ্কার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য লেখক তুলনা করেছেন ভিন্ন দেশের অবস্থার সঙ্গে। যেমন ধর্ম নিয়ে কথা বলার সময় ‘বাংলাদেশ ও সৌদি আরবে ধর্মের আদব-কায়দা’ রচনা করেছেন তেমনি সামাজিক অবস্থা নির্ণয়ে ‘বাংলাদেশ ও আমেরিকা : দুই দেশের দুই নিয়ম’, ‘হংকং ও বাংলাদেশ : একটি সমীক্ষা’ প্রভৃতি রচনাগুণে অভিনব। এসব লেখায় লেখকের রসবোধও অভিব্যক্ত হয়েছে। পথিকের দৃষ্টিতে দেখা ও রসের বর্ণনা আছে-‘লস এঞ্জেলসে ষাট ঘণ্টা’ লেখায়।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]