জামায়াত আমির

যোগ্যতা-দেশপ্রেমই হবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা কাজের অধিকার চেয়েছিল। আমরা যুবসমাজকে কথা দিচ্ছি, ইনশাল্লাহ তাদের সঠিক শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশাগত দক্ষ করে তোলা হবে। এরপর তাদের হাতে যোগ্য সম্মানজনক কাজ তুলে দেওয়া হবে। যোগ্যতা ও দেশপ্রেমই হবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি।

শুক্রবার(৬ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় পিরোজপুর শহরের জেলা স্কুল মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র এবং মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, যারা জনগণের সরকার চায় না, দেশকে গোলাম বানিয়ে রাখতে চায়, তারা এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের পর মিথ্যাচার করছে। যারা এক্স আইডি হ্যাকের পর মিথ্যাচার করছে তাদের ক্ষমা করে দিলাম।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে অনেক ম্যাগা প্রকল্পের নামে ম্যাগা দুর্নীতি হয়েছে। আমার দেশে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা চুরি করে পাচার করেছে স্বৈরাচার সরকার। এই টাকার মালিক জনগণ। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে আর কাউকে লুটপাট করতে দেব না। মুখে হাত ভরে দিয়ে সব বের করে নিয়ে আসবো।

নারীদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, মায়েদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। মায়ের অপমান এই জাতি সহ্য করবে না। ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল-সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বা উপজাতি বলে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।

আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আপনাদের প্রিয় নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীসহ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বিচার করার জন্য জামায়াতকে ভোট দেবেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ নির্মানের নির্বাচন। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ মানে আজাদি’, ‘না মানে গোলামী’এই কথা মাথায় রেখে দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমান ইরান। পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী শামীম সাঈদী ও পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. শামীম হামিদীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।

পরে পিরোজপুর-১ ও ২ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদীর হাতে প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপির শামীম হামিদীর হাতে শাপলা কলি এবং পার্শ্ববর্তী বরগুনা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।

মো. তরিকুল ইসলাম/কেএইচকে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।