মায়াবতী: পর্ব ২১

মোহিত কামাল মোহিত কামাল , কথাসাহিত্যিক, মনোচিকিৎসক
প্রকাশিত: ০৩:২৭ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০২১

 

কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের মায়াবতী বাংলা সাহিত্যে দ্বিতীয় মনোবৈজ্ঞানিক উপন্যাস। সাহিত্যের শব্দবিন্যাসে তিনি ব্যবহার করেছেন মনস্তত্ত্ব, সমাজের আড়ালের চিত্র। মা প্রত্যক্ষ করেছেন, মেয়েরা নানাভাবে উৎপীড়ন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, সহজে মুগ্ধ হয়ে অবিশ্বাস্য পাতানো ফাঁদে পা দেয়। মায়ের একান্ত চাওয়া মেয়ে ক্যারিয়ার গড়ে তুলুক। বিধিনিষেধ আরোপ করেন মা। মেয়ে তখন মনে করে, মা স্বাধীনতা দিতে চায় না, বিশ্বাস করে না তাকে। মায়ের অবস্থানে মা ভাবছেন তিনি ঠিক। মেয়ের অবস্থানে মেয়ে ভাবছে, সে ঠিক। মায়ের ‘ঠিক’ এবং মেয়ের ‘ঠিক’র মাঝে সংঘাত বাধে। সংঘাত থেকে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, ভুল করে বসে মেয়ে রিয়া। পালিয়ে যায় ঘর থেকে। এই ‘ভুল’ই হচ্ছে উপন্যাসের মূলধারা, মূলস্রোত। মায়াবতী পড়ে চিন্তনের বুননে ইতিবাচক গিঁট দেয়ার কৌশল শেখার আলোয় পাঠক-মন আলোকিত হবে। জানা যাবে টিনএজ সমস্যা মোকাবিলার কৌশল। জাগো নিউজের পাঠকের জন্য ধারাবাহিক প্রকাশিত হচ্ছে সাড়া জাগানো উপন্যাসটি—

উনিশ.
ইমরুল চৌধুরির মন ভালো নেই। এমনটা সাধারণত ঘটে না। ব্যস্ত মানুষ তিনি। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকফোকর দিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করেন। অন্তত যতক্ষণ বাসায় থাকেন স্মিতহাসি, প্রশান্তি লেগে থাকে তাঁর মুখে। পেপার পড়েন, বই পড়েন, টিভি দেখেন। চেষ্টা করেন মেয়ের সঙ্গে গল্প করতে, সময় কাটাতে। রাহেলা চৌধুরিকেও সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন।

অফিসের চাপ বাসায় তিনি পুরোপুরি অ্যাভয়েড করেন।
আজ একধরনের চাপে আছেন। জানা চাপ। চাপ নিয়ে বসে আছেন টিভির সামনে। ইচ্ছা করছে রিয়ার সঙ্গে কথা বলতে। ইচ্ছা দমিয়ে রাখলেন। কতক্ষণ আর নিজেকে সামলাবেন, জানেন না তিনি।
রিয়া পড়ার টেবিলে থাকলে সাধারণত ডাকেন না মেয়েকে।
ভেবেছিলেন, এখন রিয়া টেবিলে। এজন্য নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন।
না, রিয়া টেবিলে নেই। রিয়ার মাঝেও একধরনের অস্থিরতা। অস্থিরতা নিয়ে বসার ঘরে এলো ও।
ইমরুল চৌধুরি জিজ্ঞেস করলেন, কী খবর মা, পড়ালেখার কী অবস্থা?
রিয়া উত্তর দিলো, ভালো বাপি। মোটামুটি চলছে।
মোটামুটি চললে তো হবে না। স্টুডেন্টদের প্রধান কাজ হচ্ছে পড়ালেখা। প্রধান কাজটা যথাসময়ে আইডেনটিফাই না-করতে পারলে পরবর্তী সময়ে চাপে পড়তে হয়। পিছিয়ে যেতে হয় জীবনযুদ্ধে।
বাপির দিকে চোখ তুলে তাকাল রিয়া। শান্তকণ্ঠে বলল, প্রধান কাজটা আইডেনটিফাই করেছি বাপি। তবে এটা ঠিক, সব সাবজেক্টে সমান জোর দিতে পারছি না।
সমান জোর দিতে হবে। গলদ কোথায় দেখতে হবে।
ইংরেজিতে বোধ হয় একটু কাঁচা আমি।
ঠিক আছে, ইংরেজিটা আলাদা করে প্রাইভেট পড়। ইংরেজিতে আলাদা জোর দাও। আমার ইচ্ছা, তুমি গোল্ডেন জিপিএ পাও।
বাপি, গোল্ডেন জিপিএ বলে কিছু নেই। জিপিএ ৫ কাউন্টেবল।
ভালো করে না পড়লে জিপিএ ৫ তো পাওয়া সম্ভব না।
ভালো করে পড়ছি, বাপি।
তাহলে গোল্ডেন গ্রেড পাবে না কেন?
বললাম তো গোল্ডেন গ্রেড বলে অফিসিয়াল কোনো শব্দ নেই। এটা অভিভাবকের আরোপিত শব্দ। সব সাবজেক্টে এ প্লাস পেতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। ওপরের দিকে অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে জিপিএ ৫-এর গুরুত্ব বেশি। ‘গোল্ডেন’ শব্দটির গুরুত্ব নেই।
তবু তো ‘গোল্ডেন’ শব্দটা চালু আছে।
হ্যাঁ, তা আছে।
মা-বাবা তো সন্তানের কাছে গোল্ডেনই আশা করবে। কী বলো?
তা করতে পারে। আশা করতে হলে সন্তানের মেধার স্ট্যাটাসটাও বুঝতে হবে। যার যা পাওয়ার যোগ্যতা তার কাছ থেকে অতিরিক্ত আশা করলে তো সে চাপে পড়ে যাবে। চাপ দিয়ে তো মেধাবী বানানো যায় না। শুনেছি।
ইমরুল চৌধুরি মেয়ের কথা মেনে নিলেন, ঠিকই বলেছ, চাপ দিয়ে মেধাবী বানানো যায় না কাউকে। মেধা হচ্ছে আপন ক্ষমতা। চাপ দিলে অর্জন কমে যাবে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্জিত ফলাফলই গোল্ডেন কিছু উপহার দিতে পারে। তো ভালোটা চাইতে দোষ কী?
দোষ আছে। ‘ভালোটা’ চাইলে সন্তান চাপে পড়ে যাবে, বরং বাবা-মা সন্তানকে ভালো করার জন্য উৎসাহিত করতে পারে, পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারে, পড়ালেখার ব্যবস্থা সহজ করে দিতে পারে। তখন যে যার যোগ্যতা অনুযায়ী ভালো ফলাফল অর্জন করবে। ভালো চাওয়া এবং ভালো করার জন্য উৎসাহিত করার পার্থক্য মা-বাবাকেও বুঝতে হবে।
ইমরুল চৌধুরি মেয়ের ব্যাখ্যা শুনে মোহিত হয়ে গেলেন। মুগ্ধচোখে একবার মেয়ের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, মামণি, তোমার জন্য যা ভালো হবে, তুমি সেটাই চাইবে আমার কাছে। আমার সবকিছু তো তোমার ভালোর জন্য, তোমার সফলতার জন্য।
ইংরেজি প্রাইভেট পড়তে চাই। রিয়া খোলামেলা বলল কথাটা।
একশবার পড়বে। টিচার বাসায় আসবে, নাকি তুমি যাবে টিচারের বাসায়?
নামকরা ভালো টিচাররা তো বাসায় আসতে চান না। এলেও অতিরিক্ত সম্মানি ডিমান্ড করেন।
রিয়ার কথাটা লুফে নিয়ে ইমরুল চৌধুরি বললেন, মানি ইজ নট এ প্রবলেম। তুমি ভালো টিচার দেখো। কথা বলো। জানিয়ো আমাকে।
রিয়া বলল, আচ্ছা।

বাপির সঙ্গে বড় বড় কথা হয়। সাধারণত উপদেশমূলক কথা ছাড়া দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ-বেদনায় কম শরিক হতে পারেন তিনি। সময় নেই তাঁর। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকফোকর দিয়ে মেয়ের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য একটু হলেও ব্যাকুল থাকেন তিনি। ব্যাকুলতা ধরা পড়ে এখনকার আচরণে। রিয়া চলে যাচ্ছিল নিজের ঘরে। ইমরুল চৌধুরি প্রশ্ন করে তার চলে যাওয়ার মোশন আটকে দেন।
তুমি কি জানো, শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা মাইক্রোসফট অবশেষে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ভিসতা বাজারে ছাড়া শুরু করেছে?
জি বাপি, জানি। ভিসতার প্রথম সংস্করণটা বাজারে এসেছে। সাধারণের জন্য না। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য।
ইমরুল চৌধুরি মনে মনে খুশি হলেন। মেয়ে সব ধরনের খবর রাখে। কম্পিউটার নিয়ে মেয়ের আগ্রহ বেশি। উৎসাহ বেশি। এ বিষয়ে সে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলে। বলতে উৎসাহিত হয়। মেয়ের উৎসাহিত মুখ দেখতে ভালো লাগে। আরও কথা বলতে ইচ্ছা করছে।
কেবল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য না, সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্যও ভিসতা আসছে। দু-এক মাসের মধ্যে এসে যাবে।
আমি জানি বাপি। আসন্ন পরবর্তী অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ভিসতা এবং এমএসঅফিস ২০০৭-এ বাংলা যোগ হচ্ছে, সফটওয়্যারের বাইরের চেহারা―ইন্টারফেস হবে বাংলায়।
হ্যাঁ। উইন্ডোজে বাংলা এলে বাংলাদেশের আনাচেকানাচে কম্পিউটার ব্যবহার ছড়িয়ে যাবে। ভাষা হচ্ছে কম্পিউটারের হৃৎস্পন্দন। নিজের ভাষায় কম্পিউটার ব্যবহার সোজা হবে। লেখাপড়ার উন্নতির জন্য ছাত্রছাত্রীরা কম্পিউটারের হেল্প নিতে পারবে।
পড়াশোনায় হেল্প হবে? কীভাবে? আমার তো মনে হয় মেধা কম্পিউটারনির্ভর হয়ে যাবে। মেধা নিজস্ব গতিতে বিকাশের সুযোগ পাবে না। রিয়া নিজের মতামত জানিয়ে বাপির দিকে তাকাল।
কে কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করবে, এটা তার ব্যাপার। মডার্নাইজেশনের যুগে সুফলের পাশাপাশি কুফল তো থাকবে।
কুফল বেশি হয়ে যাচ্ছে না? দেখো, আইটির যুগে ইউরোপের দেশগুলোর দিকে তাকাও। বাপিকে কুফলের দিকে জোর দিয়ে রিয়া বলল, ওইসব দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত ই-মেইল আসার হার বেড়ে গেছে। এগুলোকে বলছে স্প্যাম। মেইলের ইনবক্সে আসা ই-মেইলগুলোর ৫০ থেকে ৮০ শতাংশই স্প্যাম। কয়েকটি দেশ এ ধরনের অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আইন পাস করতে বাধ্য হয়েছে।
ইমরুল চৌধুরি মেয়ের নলেজের গভীরতা দেখে আবারও বিগলিত হয়ে পড়েন। কথা থামাতে পারছেন না। আইটিতে নিজের রয়েছে অগাধ নলেজ। মেয়ের সঙ্গে শেয়ার করতে পেরে মন ভরে যাচ্ছে খুশিতে। তিনি আবারও যুক্তি দিয়ে বলেন, মাইক্রোপ্রসেসর চিপস নির্মাণ প্রযুক্তিতে মৌলিক একটা ত্রুটি খুঁজে পাওয়া গেছে। এই ত্রুটির ফাঁকফোকর দিয়ে একজন কম্পিউটার হ্যাকার নানা ক্রাইম করতে পারে, কম্পিউটারের গোপন তথ্য জেনে ফেলতে পারে।
রিয়া বলল, উন্নত প্রযুক্তির ফাঁক থাকবে। এটা তো মেনে নেওয়া যায় না।
মানা-না-মানার বিষয় না। বিষয় হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তিরও ত্রুটি থাকবে, সেই ত্রুটিও কারেকটেড হবে। দিনে দিনে আরও উন্নতি হবে। ক্রাইমও প্রতিরোধ হবে। আমরা আশাবাদী। নৈরাশ্যবাদী হতে চাই না। ইন্টারনেটকে ভয় পাব কেন? বিষয়টিতে জোর দিলেন তিনি।
রিয়া চট করে অফ হয়ে গেল।

‘ইন্টারনেটের ক্রাইম’ বিষয়ক আলোচনা আকস্মিক বিব্রত করে ফেলল রিয়াকে।
নিজের জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘটনাটা মুহূর্তে চোখের সামনে ভেসে উঠল। নেতিবাচক কল্পনার জালে জড়াতে লাগল ও।
বাপি প্রসঙ্গটাতে এত জোর দিলো কেন? ‘ভয়’ শব্দটিকে গুরুত্ব দিলো কেন?
তবে কি সন্ত্রাসীরা ইন্টারনেটে তার আধা ন্যুড ছবি ছেড়ে দিয়েছে!
না। নিজেকে আশ্বস্ত করল এই ভেবে যে, ছেড়ে দিলে তো বাপির ই-মেইলে আগে আসবে। বাপির কাছে অর্থ আদায়ই তো তাদের টার্গেট ছিল।
এমন একটি ঘটনা বাপির নজরে এলে এত সহজ থাকতে পারতেন না তিনি। ভেঙে পড়তেন। বাপি সহজ আছেন। বাপির মুখের দিকে তাকাল এবার। উনার ফেস পড়ার চেষ্টা করতে লাগল।
বাপিকে পড়তে পেরেছে। তাঁর চেহারায় শঙ্কা নেই। উদ্বেগ নেই। আছে স্বস্তি। শান্তি।
বাপিকে একটু বাজিয়ে দেখার ইচ্ছায় আবার বলল, শুনেছি অনলাইনে এখন ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো ঘটনা ঘটে। আজেবাজে ছবি পাঠিয়ে দেয়।
ঠিকই শুনেছ। মোবাইল ফোনের সুযোগে অনেকে সহজে যে কোনো স্থানে মেয়েদের ছবি তুলে ফেলে। সেসব ছবি অশালীন হলে তো ক্রিমিনালরা সুযোগ পেয়ে যাবে। ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। ছবি অনলাইনে ছেড়ে দিতে পারে। ঘটছে এমন ঘটনা। বলতে বলতে ইমরুল চৌধুরি বললেন, তরুণীদের বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত।

রিয়ার আত্মা জমে যেতে লাগল।
জমে যাওয়ায় মনে আর কথা এলো না। থেমে গেল সে। কোনোরকমে বাপির সামনে থেকে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল।
ইমরুল চৌধুরি হালকা বোধ করছেন।
জানা চাপটা ছিল রিয়াকে ঘিরে। উড়োফোন পেয়েছিলেন তিনি। বলা হয়েছে মেয়ের প্রতি নজর রাখতে। বিস্তারিত জানেন না তিনি।
কেন নজর রাখতে হবে? মেয়ে তো অসাধারণ। একটু জেদি। এ জেদের কারণে তার জীবনের ওপর দিয়ে ঘটে গেছে বিরাট একটা ঘটনা। একধরনের লার্নিং হয়েছে রিয়ার। এভাবে দেখছেন তিনি বিষয়টাকে। এই শিক্ষা তার জীবনবোধকে আরও শুদ্ধ করেছে। আরও অভিজ্ঞ করেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই অনেক বেশি কাজে আসবে।
এই ঘটনার কোনো নেতিবাচক পরিণতির কথা মনে আসেনি। মনে স্থান পায়নি। তিনি জানেন, মেয়ে নিরাপদে ছিল। নিরাপদে খুব দক্ষতার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবু সতর্ক সংকেত এসেছে। বিষয়টা নিয়ে দুর্ভাবনা মনে স্থান না পেলেও একদম শঙ্কামুক্ত না তিনি।
বিষয়টা বলা যাচ্ছে না রাহেলাকে, বলা যাচ্ছে না রিয়াকে।
ফারুক সাহেবের সঙ্গে আলাপ করতে পারলে ভালো হতো। তিনি তো ঢাকার বাইরে। মুনার মামার সঙ্গেও আলাপ করা যেতে পারে।
না। থাক। নিজেকে প্রবোধ দেন তিনি। চিন্তার জাল ছিন্ন করে উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করলেন সব দুশ্চিন্তা। টিভির দিকে আবার মন দিলেন। ডিসকভারি চ্যানেলে মন আটকে গেল।

ডিসকভারি চ্যানেলে দেখাচ্ছে একঝাঁক শকুনের ওড়াউড়ি। অনেক ওপর থেকে শকুনের চোখ অনেক নিচের শিকার টার্গেট করে তীব্রগতিতে ছুটে আসে। ধারালো নখের থাবায় আটকে ধরে ছোটখাটো জীবন্ত প্রাণি। সাঁই করে উড়াল দিয়ে চলে যায় আবার। হায়েনা দলবেঁধে পশু শিকার করে। হায়েনার খাবার ঘিরে আকাশে জড়ো হয় শকুন। একসময় শকুন ভাগ বসায় হায়েনার ফেলে রাখা পশুর মাংসে।
হায়েনার দলে ভরে গেছে সমাজ। পদে-পদে এখন মেয়েদের জন্য বিপদ। শকুনের ঠোঁটে রক্তাক্ত করে অনেক মায়াবতী মেয়ের জীবন। একজন বাবা হিসেবে তাই শঙ্কিত ইমরুল চৌধুরি। কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়। মেয়েকে নিয়ে নিজের শঙ্কার কথা বলতে পারেননি সরাসরি। বলেছেন কিছুটা। ঘুরিয়েফিরিয়ে বলেছেন। কতটুকু লাভ হবে জানেন না। মেয়ের সঙ্গে কথা বলাই তার জন্য শান্তির। শান্তি নিয়ে টিভি বন্ধ করে শোবার ঘরে ঢোকেন তিনি।
রাহেলা চৌধুরি বারান্দায়। বারান্দায় ফুলের পরিচর্যা করছেন। স্ত্রীর ফুলপ্রীতি মুগ্ধ করে তাকে। রাহেলাকে সেই মুগ্ধতার কথা জানাতে পারেননি কখনো।

রিয়া তার জীবনের অর্কিড ফুল। স্বামী হিসেবেও তিনি নিজেও তার মনের বাগানের অন্যরকম এক ফুল। বোঝেন তিনি। এমন প্রেমময়ী, মমতাময়ী জীবনসঙ্গীকেও তার মাঝে মাঝে অচেনা লাগে।
কেন এমন লাগে?
জানেন না তিনি। জানার প্রয়োজনও বোধ করেন না।

চলবে...

এসইউ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]