কাউকে বলা যাবে না

সাহিত্য ডেস্ক
সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২১

ফাত্তাহ তানভীর রানা

রঙ্গমঞ্চ ভরপুর। কলাকুশলী, দর্শক, আয়োজক—সবার পর্যাপ্ত ব্যস্ততা। যাত্রা প্যান্ডেলে একের পর এক চলছে নাচ ও অভিনয়। সেই রজনীর পালা ছিল ‘মধুমালা ও মদন কুমার’। সেদিনের মধুমালা ছিল প্রিন্সেস শ্রাবন্তী।

অভিনয়ই ছিল মূল আকর্ষণ। তবে মাঝে মাঝে দু’একবার একক ও দলীয় নৃত্যও চলছিল। নাচ ও গানের তাল-লয়-মুদ্রা-ছন্দ সবই বেঠিক। তবুও দর্শকদের বাহবা পাওয়া যাচ্ছিল। নৃত্যের উদ্দেশ্য দর্শকদের যৌনতৃপ্তি দেওয়া নয় বরং যৌন সুড়সুড়ি দিয়ে চাহিদাকে জাগরিত করা অথবা ক্ষণস্থায়ী সুখ সাগরে ভাসানো। ঘটনা যা-ই ঘটুক না কেন, এটি দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে।

অভিনয়ে বিরতি দিয়ে গান ও নৃত্য চলছিল। দর্শক সাড়াও দিচ্ছিল বেশ। বুদ্ধিবৃত্তি যাঁদের রয়েছে, তেমন দর্শকের দৃষ্টি গেল ঠিক পেছনটায়। সেখানে প্রিন্সেস সূর্যমণি তার রোষানল ঢালছে। হেতু বোঝা গেল একটু পরে। একজন শিল্পী বেশ সময় নিয়ে গাইছে এবং অঙ্গভঙ্গি করে নেচেই যাচ্ছে; পয়সাও কামাচ্ছে। এতে সূর্যমণিসহ অন্যরা পেশাগতভাবে মার খাচ্ছে। তাই এত অসন্তোষ!

রুশো রহমান যাত্রার খুব মনোযোগী দর্শক। সূর্যমণির ঘটনাটি রুশোর দৃষ্টি এড়াতে পারেনি। সূর্যমণিতে রুশোর চোখ আটকে গেল। দোহারা গড়ন, ফর্সা রঙের সুন্দরী মেয়ে সূর্যমণি। আগে যাত্রা প্যান্ডেলে এমন কাউকে দেখেনি রুশো। যাত্রামঞ্চে কী ঘটছে সেদিকে রুশোর লক্ষ্য নেই; রুশোর দৃষ্টি ওর দিকে নিবদ্ধ। আরও মেয়ে তো রয়েছে, সূর্যমণি ওদের চেয়ে আলাদা। এই আলাদা ভাবটা সবার কাছে সহজে ধরা দেয় না। বিষয়টি রুশোর মনে স্থায়ী বা অস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয়।

রুশো মঞ্চের দিকে নজর দিলো, যখন সূর্যমণি সদর্পে গ্রিনরুমের দিকে ছুটলো। এরপর সূর্যমণি মঞ্চে এসে গাইলো-নাচলো। যদিও গান-নাচ বেসুরো, তবুও সবাইকে নাচালো-গাওয়ালো। ওর প্রতি রুশোর ভালো লাগা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তীব্র ও জোরালো। ছোট্ট একটি ঝড় শুরু হলো রুশোর মনের কোণে, হয়তো কয়েক দিন ধরে বইবে!

রুশো সমাজের খুব সাধারণ ও নির্জীব মানুষ। এবারে রুশো আকাশপানে চোখ তুললো এবং একসময় ফিরিয়েও নিলো। ভোরের আলো ফুটে বের হলো বলে। কয়েক বন্ধু আর রুশো গৃহে প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। কিছু মানুষের কথোপকথন থেকে রুশো নিশ্চিত হলো। যাত্রার এই দলের পরিবেশনা আজই শেষ রজনী। অন্য দল পরিবেশন করবে আগামী রজনী।

সূর্যমণি দর্শনের সম্ভাবনা রুশোর অসম্ভব হয়ে গেল। এরপর কয়েক তরুণ আবার যাত্রা শুরু করলো। এ যেন এক যাত্রার সমাপ্তি আর অন্য যাত্রার সূচনা!

এসইউ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]