বেকার যুবকদের পথ দেখাচ্ছেন উদ্যোক্তা আল-আমিন
উদ্যোক্তা আল-আমিন/ছবি-জাগো নিউজ
২০০২ সালের কথা। হাতে কোনো পুঁজি ছিল না। ছিল না কোনো বিশেষ সুবিধাও। শুধু শেখার আগ্রহ আর এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে লালমনিরহাটের কালিবাড়ি এলাকায় মোহাম্মদ সবুজের গ্যারেজে সাধারণ সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন আল-আমিন। দীর্ঘ ১০ বছর সেখানে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। চেষ্টা বিফলে যায়নি।
দীর্ঘদিন অন্যের গ্যারেজে কাজ করা আল-আমিন এখন নিজেই একটি গ্যারেজের মালিক। শূন্য হাতে অন্যের গ্যারেজে কাজ শুরু করে আজ তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, বরং কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন আরও অনেকের।

জমানো পুঁজি দিয়ে ২০১৪ সালে জুম্মাপাড়ায় নিজ উদ্যোগে ছোট পরিসরে একটি মোটরসাইকেল সার্ভিসিং গ্যারেজ প্রতিষ্ঠা করেন আল-আমিন। শুরুতে মাত্র ২-৩ জন কর্মচারী নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও সততা, দক্ষতা ও সেবার মানে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত গ্রাহকদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছোট গ্যারেজটি আজ লালমনিরহাটের অন্যতম সুপরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই আল-আমিনের গ্যারেজ। আধুনিক স্ক্যানার, হেডলাইট পলিশ মেশিন, বাইক ওয়াশ মেশিন এবং প্রেসার মেশিনসহ উন্নত যন্ত্রপাতির সাহায্যে এখানে দ্রুত ও মানসম্মত সার্ভিস দেওয়া হয়। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ১৪-১৫ জন কর্মী।
শুধু গ্যারেজেই থেমে থাকেননি আল-আমিন, উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড মোটরসাইকেলের শোরুমও চালু করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: শেফালীর নকশিকাঁথায় স্বাবলম্বী আড়াইশো নারী
৮ হাজার মুরগি মরে তিন মাসে সোহাগের দুই দশকের স্বপ্ন শেষ
ঋণ পেতে বেগ, শুরুতেই ঝরে যান অনেক নারী উদ্যোক্তা
তরুণ উদ্যোক্তা আল-আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০০২ সালে ওস্তাদ মোহাম্মদ সবুজের হাত ধরে আমার কাজ শেখা শুরু। ওখানেই কাজ করে গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া পাই। এরপর তিল তিল করে টাকা জমিয়ে জুম্মাপাড়ায় ছোট একটি প্রতিষ্ঠান দিই। আজ সেখান থেকে ১৪-১৫টি পরিবারের খরচ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমার এখান থেকে কাজ শিখে আজ নিজে দোকান দিয়ে স্বাবলম্বী। বেকার যুবকদের প্রতি আমার একটাই পরামর্শ—বসে না থেকে হাতের কাজ শিখুন, নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই পরিবর্তন করুন।’
গ্যারেজে কাজ শেখা নুর হোসেন নামের একজন তরুণ বলেন, ‘আল-আমিন ভাই শূন্য থেকে শুরু করে আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আধুনিক যন্ত্রপাতির সব কাজ আমরা এখানে শিখছি। দিনশেষে যে অর্থ পাই, তা আমার ও আমার পরিবারের অনেক উপকারে আসে। আমরাও স্বপ্ন দেখি একদিন তার মতো প্রতিষ্ঠিত হবো।’

নিয়মিত সেবা নিতে আসা গ্রাহক জুবায়ের আহমেদ খান রোহান বলেন, ‘আল-আমিন ভাই একসময় অন্যের গ্যারেজে কাজ করতেন। পরে আমাদের বাসার সামনে ছোট দোকান দেন। কে জানত সেই দোকান চোখের সামনে এত বড় রূপ নেবে! আশপাশের জেলাগুলো থেকেও মানুষ এখানে ছুটে আসে। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও দক্ষ। কাজে তার মনোযোগ এতটাই তীক্ষ যে, একবার মোটরসাইকেল সারালে দ্বিতীয়বার আর আসতে হয় না।’
এসআর/জেআইএম