ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শিক্ষক নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্য : তদন্ত স্থগিত

প্রকাশিত: ১০:৫৬ এএম, ১৮ মে ২০১৭

নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান বাবুল ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতিসহ স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হারুন-অর রশিদ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক মো. রবিউল হককে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কমিটি কলেজে তদন্ত করতে গেলে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ অভিযোগকারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

পরে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগকারীদের বক্তব্য লিখিত আকারে তার কাছে পাঠানোর কথা বলে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে কলেজ থেকে বেরিয়ে যান। এদিকে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে।

অভিযোগকারী আসাদুর রহমান বাবুল, আশরাফুল আলম তুহিন, সাবুল হোসেন বলেন, গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষ নিয়োগ বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করার জন্য তাদের পছন্দের লোক রেজাউল ইসলামকে (ফিলিপ) বিদ্যুৎসাহী সদস্য করেন।

কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ওই সদস্যকে অবশ্যই ডিগ্রি পাস হতে হবে। বিদ্যুৎসাহী সদস্যের ডিগ্রি পাসের সার্টিফিকেট না থাকায় একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাস সনদ সংগ্রহ করে সদস্য পদে স্থায়ী হন।

পরে ২০১৫ সালে ডিগ্রি শাখার জন্য সাতজন প্রভাষক ও একজন লাইব্রেরিয়ান পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রেজাউলকে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য করে।

ভুয়া জাল সনদধারী বিদ্যুৎসাহী সদস্য অধ্যক্ষ ও সভাপতির যোগসাজশে তার কাছের আত্মীয় সবুজা আক্তার হাসিকে ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক, জামাই মোস্তাফিজার রহমানকে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক ও তার আপন শ্যালক আয়াতুন্নবীকে লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ প্রদান করে। কিন্তু তার শ্যালকের লাইব্রেরিয়ান পদের যোগ্যতা না থাকায় একটি জাল সনদ সংগ্রহ করে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। দুই প্রভাষক ও অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারীকে বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে বিদ্যুৎসাহী সদস্য রেজাউল ইসলাম ফিলিপের সঙ্গে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পরিচালক ও তদন্ত কমিটির প্রধান মো. রবিউল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, কলেজে তদন্ত করতে গেলে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ ও অভিযোগকারী আসাদুর রহমান বাবুল ও অন্যান্যদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে আমি তদন্ত কার্যত্রম স্থগিত করে অভিযোগকারীদের লিখিতভাবে আমার অফিসে তাদের বক্তব্য পেশ করার অনুরোধ জানাই। অভিযোগকারীদের বক্তব্য পেলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।

জাহেদুল ইসলাম/এএম/জেআইএম