২৭ মণ ওজনের ‘বাদশা’, দাম ১০ লাখ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের হাসামপুরে লন্ডনপ্রবাসী আব্দুল খালেদ নুর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ২২টি ষাড় ও ২০টি ছাগল নিয়ে শুরু করেন খামার। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা এসব ষাড়ের একটির নাম বাদশা। বাদশার ওজন ২৭ মণ দাবি করে খামারের তত্ত্বাবধানে থাকা আতিকুর বলেন, এখন পর্যন্ত এটিই জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ওজনের গরু।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমেরিকান ব্রাহমা জাতের বাদশার মূল্য হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ। খালেদ শখের বসে শুরু করেন প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গরু ও ছাগল মোটাতাজাকরণ। তার খামারের বয়স ১০ মাস। এখানে চার থেকে ছয়জন লোক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
খামারের দেখাশোনা করা আতিকুর রহমান চৌধুরী তিনি বলেন, ৩০ লাখ টাকার পুঁজি দিয়ে শুরু করলেও এখন তার খামারের সাতটি গরু বিক্রি করলে অর্ধেক টাকা পাওয়া যাবে, তাও খরচ বাদে। বাকিগুলো লাভেই থাকবে।

গরুর জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রাহমা, নেপালি, শাহিওয়াল, সিন্ধি ও দেশীয়। গরুর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রজাতির ছাগলও মোটাতাজা করছেন। ছাগলের মধ্যে তোতাপুরি, যমুনাপাড়ি, হরিয়ানা, বরবরি ও দেশীয় প্রজাতির ব্ল্যাকবেঙ্গল রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতাই এসে গরু ও ছাগল দেখে দরদাম করছেন।
লন্ডনপ্রবাসী আব্দুল খালেদ নুর বলেন, খামারের সর্বোচ্চ গরুটির নাম বাদশা রেখেছিল ছেলে তামির, যার মূল্য হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। ৫ লাখ পর্যন্ত দাম উঠেছে গরুটির। বাদশার খাদ্যের তালিকায় রয়েছে উন্নত জাতের ঘাস, খৈল, ভুট্টা, গম, চালের গুঁড়া ও ভূষি।
এখানে কাজ করেন সফিক মিয়া। তিনি জানান, তিনিসহ আরও কয়েকজন এই খামারে কাজ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোই আছেন।
এলাকাবাসী আব্দুল মুহিত বলেন, খামারটি দেখার মতো। এত অল্প সময়ে সকল জাতের গরু ও ছাগল পালন করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে ঘাস, খৈল, ভূষি, ভাতের ফ্যান ইত্যাদি খাইয়েও যে পশু মোটাতাজা করা যায় এটি তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আতিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, গরুটি ক্রয় করতে অনেক ক্রেতাই ভিড় করছেন। তবে যে কেউ খামারে আসলে গরুটি দেখে পছন্দ হলে কিনে নিতে পারবেন।
সার্বক্ষণিক তদারকি করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. গোলাম মোহাম্মদ মেহেদী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বাদশার ওজন এক টনের কাছাকাছি এবং এই গরুটি সম্পূর্ণ দেশীও পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে। কোনো ধরনের কেমিকেল ব্যবহার না করেও যে সফলভাবে গরু ও ছাগল মোটাতাজা করা যায় এটি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে বড় কি না জানি না তবে কুলাউড়া উপজেলার সবচেয়ে বড়।
প্রবাসী আব্দুল খালেদ নুর বলেন, প্রথমত শখ থেকে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য খামারটি গড়ে তুলি। প্রথমে ৪/৫টি গরু দিয়ে শুরু করলেও এখন খামারে ২২টি গরু ও ২০টি ছাগল রয়েছে। এই খামারের মাধ্যমে এলাকার বেকার যুবসমাজকে কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব দূর করাও আমার লক্ষ্য।
রিপন দে/বিএ