ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

জ্বালানি সংকটে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে শাকসবজিসহ ৩০ শতাংশ ফসল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে উৎপাদিত ৩০ শতাংশ শাকসবজি সংক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। দরিদ্র মানুষ আয়ের ২২ শতাংশ জ্বালানিতে খরচ করছে। গ্যাস সংকটে পোশাক কারখানার উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমেছে। সিমেন্ট উৎপাদনে খরচ বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে ব্যাগ প্রতি দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবিলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, জ্বালানি সংকটের কারণে পোশাকশিল্পের উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। পরিবহন ব্যয়ের মধ্যে কনটেইনার ফ্রেইট চার্জ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এতে কনটেইনার প্রতি অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, স্টিল ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে কাঁচামালের ব্যয় ও লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধির প্রভাব লক্ষণীয়। স্টিল স্ক্যাপের মূল্য টন প্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলার এবং ওষুধের উৎপাদন উপকরণের ব্যয় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে।

ঢাকা চেম্বার বলছে, এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৪৫ শতাংশ এসএমই উদ্যোক্তা জ্বালানি সংকটকে ব্যবসার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

জীবনযাত্রার প্রভাব তুলে ধরে তাসকীন আহমেদ বলেন, গ্রামীণ এলাকায় প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্ত লোড শেডিং হচ্ছে। অন্যদিকে, শহরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে তাদের মোট আয়ের প্রায় ২২ শতাংশ কেবল জ্বালানি খাতেই ব্যয় করতে হচ্ছে। দেশের কৃষি খাতে ডিজেলের আমদানিতে দাম ১৭.৬৫ শতাংশ এবং সার আমদানির ব্যয় প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংরক্ষণ সংকটের মধ্যে কার্যকর কোল্ড চেইন ব্যবস্থার অভাবে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদিত ফসল ও সবজি সংগ্রহের পরপরই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটের ধকল না কাটতেই চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশের শিল্প খাত আজ বহুমাত্রিক চাপে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি বৈদেশিক ইস্যু নয়, এটি সরাসরি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট। একটি সামষ্টিক ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আবার হতে না হয়, তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

দেশে করণীয় বিষয়ে ঢাকা চেম্বার বলছে, তাতক্ষণিক পদক্ষেপের মধ্যে জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে (মালয়েশিয়া/ব্রুনাই) মাধ্যমে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং ৯০-১৮০ দিনের ডিফার্ড পেমেন্ট সুবিধার জন্য আলোচনা করতে হবে। দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করা। কম গুরুত্বপূর্ণ খাতে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিকল্পিত লোডশেডিং বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। ফোর্স মেজিউর প্রয়োগের মাধ্যমে ক্যাপাসিটি চার্জ পুনর্বিবেচনা করা এবং প্রেডিক্টেবল ও স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা কার্যকর করা জরুরি। কৃষি খাতের ওপর চাপ কমাতে সার ও ডিজেলে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দিতে হবে।

জাতীয় অর্থনীতি সচল রাখতে রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

স্বল্পমেয়াদি বেশকিছু পরামর্শ দিয়ে ঢাকা চেম্বার বলছে, এনার্জি ইনসেনটিভ শিল্পগুলোর জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া এবং জ্বালানির অভিঘাত কমাতে শুল্ক কমাতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে হবে। নিয়মিত ‘এনার্জি ওডিটিং’ পরিচালনা এবং সিস্টেম লস কমাতে তিতাস ও বাখরাবাদের পুরোনো পাইপলাইনগুলো সংস্কার করতে হবে। পায়রা ও মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া এবং নেপাল/ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে।

জাতীয় জ্বালানি মজুত বাড়াতে তৃতীয় এফএসআরইউ এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি বলেও জানায় ঢাকা চেম্বার।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খানসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

ইএইচটি/এমএমএআর