ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

ঋণ ও নীতি সংকটের পুরোনো বৃত্তে কোটি এসএমই উদ্যোক্তা

এমদাদুল হক তুহিন | প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশে এক কোটিরও বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছেন। এ খাতে জড়িত তিন কোটিরও বেশি মানুষ। জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা (এসএমই) এখনও সেই পুরোনো সমস্যায়ই জর্জড়িত। ঋণপ্রাপ্তি, প্রশিক্ষণ ও নীতিসহায়তা- এখনও এ খাতের প্রধান সমস্যা। এর মধ্যে ‘পুঁজির অভাব’ই বড় প্রতিবন্ধকতা।

শুরুতে তাদের ধারদেনা করেই ব্যবসা শুরু করতে হয়। এর পরেই প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাবে খেতে হয় হোঁচট। তা কাটিয়ে উঠতে পারলেই কিছুটা সফলতার মুখ দেখতে পারেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।

তবে প্রশিক্ষণ নিয়েও ঝরে পড়েন অনেকে। প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। ক্ষুদ্র এই উদ্যোক্তাদের জন্য ‘আলাদা’ কোনো ব্যবসায়িক নীতি নেই, ব্যবসা করতে হয় প্রচলিত নিয়ম-নীতিতেই। খাতটির প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এমনটিই বলছিলেন সংশ্লিষ্টরা।

ঋণ ও নীতি সংকটের পুরোনো বৃত্তে কোটি এসএমই উদ্যোক্তা

জানতে চাইলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা অ্যাক্সেস টু ফিন্যান্স। ছোট উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পান না। ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে চায় না। বাজারজাতকরণে দুর্বলতা ও বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারাও এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রয়েছে নীতিসহায়তার ঘাটতিও। ছোটবড় প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট-ট্যাক্সের হার একই। ঢাকার বাইরে থাকা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পান না। খাতটি এসব প্রতিবন্ধকতায় ভুগছে। ধীরে ধীরে আমরা এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।’

দেশে ১ কোটি এসএমই উদ্যোক্তা, জড়িত ৩ কোটি মানুষ

এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, দেশে এসএমই উদ্যোক্তা ১ কোটির ওপরে। এ খাতে প্রায় ৩ কোটি মানুষ জড়িত। জাতীয় অর্থনীতিতে (জিডিপি) এ খাতের অবদান প্রায় ২৮ শতাংশ। খাতটির গুরুত্ব তুলে ধরে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ এসএমই উদ্যোক্তা রয়েছে। প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ মানুষ সরাসরি এই খাতে নিয়োজিত। জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান প্রায় ২৮ শতাংশ। এত বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’ 

আরও পড়ুন
যুদ্ধের প্রভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা
সন্ধ্যায় শপিংমল-দোকান বন্ধ হওয়ায় বিক্রিতে ধস, ধাক্কা বৈশাখী বাজারেও
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাতকে সুরক্ষা দিন
এসএমই ও কৃষিখাতে জোর দেওয়ার আহ্বান গভর্নরের

প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশন

দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে নানান প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশন। করছে মেলার আয়োজনও। করে দিচ্ছে ঋণ সহায়তার ব্যবস্থাও।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এসএমই ফাউন্ডেশনের প্রত্যক্ষ সেবাগ্রহীতা বছরে প্রায় ৫০ হাজার। এখন পর্যন্ত সেবা নিয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার। পরোক্ষভবে সেবা নিয়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার এমএসএমই উদ্যোক্তাকে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। নতুন উদ্যোক্তা, বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের ডিজাইন ও মানোন্নয়ন, বহুমুখীকরণ, বাজারজাতকরণ, দেশি-বিদেশি মান সনদ এবং জিআই স্বীকৃতি পেতে ও পণ্যের রপ্তানিতে সহায়তা করে এসএমই ফাউন্ডেশন।

ঋণ ও নীতি সংকটের পুরোনো বৃত্তে কোটি এসএমই উদ্যোক্তামতিঝিলের শাপলা চত্বর, এর পেছনেই বাংলাদেশ ব্যাংক, ফাইল ছবি

পুঁজি ও ঋণপ্রাপ্তিই বড় সমস্যা

দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজিই সবচেয়ে বড় সমস্যা। ব্যবসার শুরুতে তাদের ধারদেনা করে ব্যবসা শুরু করতে হয়। পরে ব্যবসা বড় হলেও পাওয়া যায় না ব্যাংক ঋণ।

এসএমই উদ্যোক্তা নাজনীন হাবিব বলেন, ‘মাত্র ৫০ হাজার টাকা ধারদেনা করে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। পরে ব্যবসা করতে করতে আবারও পরিবার থেকে ২ লাখ টাকা ধার নিয়েছি। এখন ব্যবসা প্রায় ২০ লাখ টাকার। কিন্তু ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছি না। আমাদের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজিই সবচেয়ে বড় সমস্যা।’

একই ধরনের কথা বলেন আরেক উদ্যোক্তা আমান উল্লাহ। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘আসলে এসএমই খাতে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে- আমাদের নিজেদের বড় কোনো পুঁজি থাকে না। ব্যাংকগুলোও ঋণ দিতে চায় না।’

আরও পড়ুন
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসএমই খাতকে সুরক্ষা দিন
এসএমই খাতে ঋণ কমছে, সর্বোচ্চ সীমা বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
এসএমই, বিদেশি বিনিয়োগ ও বন্ড বাজারে কর প্রণোদনার সুপারিশ ডিএসইর
এসএমই খাতের ‘ভবিষ্যৎ অন্ধকার’ দেখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান

ওয়াহিদুজ্জামান নামের আরেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বলেন, ‘মাইক্রো উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ব্যাংক তাদের ট্রাস্ট করে না। ব্যাংক ট্রানজেকশন না থাকায় অনেক সময় ঋণ পাওয়া যায় না। অথচ যাদের অ্যাকাউন্টে অনেক টাকা আছে, ব্যাংক তাদেরই সহজে ঋণ দেয়।’

আরেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা জুয়েনা ফেরদৌস বলেন, ‘ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজিই বড় সমস্যা। স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করলে খুব ধীরগতিতে এগোতে হয়। ব্যাংকিং সহায়তা সহজ না হওয়ায় অনেকেই পিছিয়ে পড়েন।’

ঋণ ও নীতি সংকটের পুরোনো বৃত্তে কোটি এসএমই উদ্যোক্তা

এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নোয়াখালীতে নতুন নারী-উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘এসো উদ্যোক্তা হই’ কর্মসূচির আওতায় ‘নতুন ব্যবসা সৃষ্টি’ কর্মশালা আয়োজন করা হয়, ছবি: এসএমই ফাউন্ডেশন

প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের নার্সিং ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেই

দেশের প্রশিক্ষিত এসএমই উদ্যোক্তাদের নার্সিং ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ না থাকাও এ খাতের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা বলে জানান ব্যাগ, হোম ডেকর ও হস্তশিল্প পণ্য প্রস্তুত এবং বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান আহ্লাদ ফ্যাশনসের কর্ণধার জুয়েনা ফেরদৌস। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘জেলা বা উপজেলায় প্রশিক্ষণ নেই। সব প্রশিক্ষণ ঢাকাকেন্দ্রিক। যেমন আমি রংপুরের মেয়ে হিসেবে রংপুরে কোনো প্রশিক্ষণ পাইনি। ঢাকায় এসে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। এ কারণে নিজেকে প্রস্তুত করতে বেশ সময় লেগেছে।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষ কর্মী তৈরি করাও এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশিক্ষিত জনবল না থাকায় নিজস্ব অর্থায়নে কর্মী তৈরি করতে হয়েছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।’

প্রশিক্ষণ ও নীতিসহায়তা প্রসঙ্গে জুয়েনা ফেরদৌস বলেন, ‘প্রতি বছর অনেক নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, কিন্তু তাদের টিকিয়ে রাখার জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নেই। বাজারজাতকরণ ও বাস্তবভিত্তিক সহায়তা ছাড়া এই উদ্যোক্তারা টেকসই হতে পারবে না। বরং সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের আরও যত্ন নিয়ে এগিয়ে নেওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এসএমই ফাউন্ডেশনের এমডি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘প্রশিক্ষণের পর খুব অল্পসংখ্যক উদ্যোক্তা ঝরে পড়ে। আমরা নিয়মিত ফলোআপ করি। প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ, মার্কেটিং, প্রযুক্তি ব্যবহার ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছি। তবে এই কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে করা দরকার।’

আরও পড়ুন
এসএমই খাতে ফাইন্যান্সিং শুধু অর্থায়ন নয়, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ
এসএমই খাতে ৩ বছরে তৈরি হবে ১৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা
ক্লাস্টারে সমৃদ্ধ এসএমই খাতের অন্তরায় অর্থায়ন
ব্যাংক ঋণ পেতে নারী উদ্যোক্তারা এখনো অবহেলিত

আলাদা নিয়ম না থাকায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায় না

আমান প্লাস্টিক টয়েজ ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি এসএমই প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা আমান উল্লাহ ২০২৫ সালে বর্ষসেরা এসএমই উদ্যোক্তাও হয়েছিলেন।

জাগো নিউজকে আমান উল্লাহ বলেন, ‘এসএমই খাতের জন্য আলাদা কোনো নীতি নেই, প্রচলিত ব্যবসায়িক নীতিতেই ব্যবসা করতে হয়। বড় ইন্ডাস্ট্রির জন্য যে আইন, এসএমইর জন্যও সেই একই বিধি-বিধান প্রযোজ্য। যার কারণে অনেক ক্ষেত্রে এসএমই উদ্যোক্তারা চাইলেও সব নিয়ম পূরণ করে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়।’

নীতিসহায়তা প্রসঙ্গে অর্গানিক কসমেটিক্সের প্রতিষ্ঠান ‘রিবানা’র উদ্যোক্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এসএমই খাতের জন্য আলাদা কার্যকর নীতিমালা ও বাস্তবসম্মত সহায়তা খুবই প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ছোট ছোট ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পেস বা প্লট থাকা দরকার। কিন্তু বাস্তবে বড় বড় প্লট বেশি থাকে, ছোট উদ্যোক্তারা সুযোগ পান না। আমাদের দেশে মাইক্রো পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের জন্য অবকাঠামোগত সহায়তা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই এসএমই খাত আরও শক্তিশালী হবে।’

স্থিতিশীল নয় ই-কমার্স

‘এসএমই খাতের প্রতিবন্ধকতা সেক্টরভেদে ভিন্ন। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ই-কমার্স এখনো স্থিতিশীল নয়। এফ-কমার্স পুরোপুরি আনস্ট্যাবল হয়ে গেছে। আগে শুধু বুস্টিং করলেই বিক্রি হতো, এখন এআইভিত্তিক সিস্টেম কাস্টমারের রিভিউ, পছন্দ-অপছন্দ সবকিছু ডিটেক্ট করে। ফলে অনেক উদ্যোক্তার হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে।’ বলছিলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত এসএমই উদ্যোক্তা ওয়াহিদুজ্জামান।

ঋণ ও নীতি সংকটের পুরোনো বৃত্তে কোটি এসএমই উদ্যোক্তা

যা বলছেন খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা

জানতে চাইলে জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি, বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি মির্জা নূরুল গণী শোভন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এসএমই খাতের বড় প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার। এটি এখন সিঙ্গেল ডিজিট থেকে দুই অঙ্কে পৌঁছে গেছে। এছাড়া আমদানি-রপ্তানিতে জটিলতা ও জ্বালানি সংকট রয়েছে। এসব বিষয় উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। সব মিলিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক- দুই বাজারেই এসএমই খাত চাপের মুখে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এ খাত আরও নাজুক অবস্থার দিকে যেতে পারে।'

মন্তব্য জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের এসএমই খাত বর্তমানে জ্বালানি সংকট, সাপ্লাই চেইন বিঘ্ন হওয়া এবং অর্ডার ও বিক্রি কমে যাওয়ার কারণে বড় চাপে রয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচামাল আমদানিও কঠিন হয়ে পড়েছে। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ডার কমে যাওয়ায় সাব-কন্ট্রাক্টিং কমেছে। ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া সরাসরি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত না থাকায় সরকারি অনেক প্রণোদনা প্যাকেজ বা প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিলের অর্থ পাচ্ছে না ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।’

সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, ‘সরকারের উচিত এ খাতের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানো ও প্রণোদনা তহবিলে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা তহবিলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে- যাতে উদ্যোক্তারা অনলাইন বিক্রয় ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া কাঁচামালের উৎস বহুমুখীকরণ, কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এমন উদ্যোগ নিলে এসএমই খাত টিকে থাকতে পারবে এবং তা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।’

ইএইচটি/এমএমএআর/এমএফএ