সন্ধ্যায় শপিংমল-দোকান বন্ধ হওয়ায় বিক্রিতে ধস, ধাক্কা বৈশাখী বাজারেও
দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিংমল ও দোকান বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে বেচাকেনায় ধস নেমেছে। বিক্রি কমে গেছে অর্ধেকেরও বেশি।
বিক্রেতারা বলছেন, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকানে ক্রেতা থাকে না। ক্রেতারা আসেন বিকেলে ও সন্ধ্যার পরে। এ সময়ই মার্কেটে ক্রেতা আসেন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। আর এ কারণেই বিক্রি কমে গেছে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ।
ক্রেতারাও বলছেন, অফিস ও কাজ শেষে প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও করতে পারছেন না না তারা।
মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক বাজারে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা এসেছে। নির্বাচিত নতুন সরকারের সময়ে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা ছিলো আকাশচুম্বী। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তে প্রস্তুতকৃত নানা পণ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কারণ, বৈশাখের পরে আর এসব পণ্যের ক্রেতা থাকবে না।
আরও পড়ুন
তেল সংকট ও রপ্তানি কমার অজুহাতে বেড়েছে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া
৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ট্রাকভাড়া, বাড়ছে মাছের দাম
জ্বালানি সংকটে বান্দরবানে হোটেল-রিসোর্টে কমেছে আগাম বুকিং
তেল সংকটে কঠিন হচ্ছে চরাঞ্চলের জীবন-জীবিকা
এমন প্রেক্ষিতে দোকান মালিক সমিতির নেতা ও একাধিক সংগঠন এখনও দাবি করছেন যাতে দুপুর ১২টায় দোকান খুলে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যবসা করা যায়। সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হলেও তা কোনো ইতিবাচক প্রভাব আনবে না বলে মন্তব্য তাদের। অন্তত পহেলা বৈশাখের আগ পর্যন্ত রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকান খোলা রাখার দাবি রয়েছে কোনো কোনো ব্যবসায়ীর।

সন্ধ্যা ৭টায় মার্কেট বন্ধ হলেও খোলা থাকছে ফুটপাতের দোকান, ছবি: জাগো নিউজ
যা বলছেন সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষ
পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন শাহীন মিয়া। মাকে নিয়ে এবার তিনি হজে যাবেন। তবে এখনও হজের কেনাকাটা করতে পারেননি।
শাহীন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দোকান বন্ধ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। সেখান থেকে ফিরে যে মার্কেটে যাবো তার উপায় নেই। ৭টার মধ্যে শপিংমলও বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে রাতে যে মার্কেটে যাবো সেই উপায় নেই। হয়তো পুরো একদিন দোকান বন্ধ রেখেই মার্কেট করতে হবে।’
গাজীপুরের টঙ্গীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাহবুব হাসান সজীব। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস এখনও আগের নিয়মেই চলছে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। আগামী বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়ি যাবো। ভেবেছিলাম তার আগেই বৈশাখের কেনাকাটা করবো। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টায় মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখনও কেনাকাটা করতে পারিনি। অফিস বাদ দিয়ে তো আর মার্কেটে যাওয়া যাবে না।’

সরকারের নির্দেশ মেনে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, ছবি: জাগো নিউজ
যা বলছেন সাধারণ দোকানিরা
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে নারীদের পোশাক বিক্রি করেন ফ্যাশন লেডির কর্ণধার মনির। এই কাপড় বিক্রেতা বলেন, ‘ঈদের মৌসুমেই কাপড়ের মূল বিক্রি। আর আমরা যেসব পোশাক বিক্রি করি তা মূলত মৌসুম কেন্দ্রিক। তবে এই সময়ে যে পরিমাণ বিক্রি হওয়ার কথা ছিলো, দোকান বন্ধ থাকায় সেই বিক্রি হচ্ছে না।’
রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে পাইকারিতে কসমেটিক্স বিক্রি করেন হাসিব। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘এখন সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খুলে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ করতে হচ্ছে। কিন্তু সকালে কোনো ক্রেতা থাকে না। বিকেলের দিকে ক্রেতা আসতে শুরু করলেই দোকান বন্ধ করার সময় এসে যায়। নতুন এই সিদ্ধান্তে বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।’
মোবাইল মার্কেটে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে জানতে চাইলে বসুন্ধরা সিটির তানভীর টেলিকমের তানভীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘মানুষ অফিস-আদালতে কাজ শেষ করে ৩টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে মার্কেটে আসে। ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইলের কেনাকাটা করতে ২ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। কিন্তু ততক্ষণে ৭টা বেজে যায়। তাড়াহুড়া করে আমাদের হিসাব করতে হয় এবং দোকান বন্ধ করতে হয়। এতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেক ক্রেতা এসে মার্কেটের বাইরে অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ ফিরে যান। ঢাকার বাইরে থেকে আসা ক্রেতারা বলেন- ভাই ওই মোবাইলটা নিয়ে বের হন। কিন্তু মার্কেটের বাইরে নিয়ে তো আর মোবাইল বিক্রি করা যাবে না। আমাদের বিক্রিও অনেক কমে গেছে।’
আরও পড়ুন
গরম পড়তেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আইপিএস
টানা ৮ মাস ধরে সুখবর নেই রপ্তানি আয়ে
তেলের অভাবে মিলছে না গাড়ি, মাঠেই পড়ে থাকছে স্ট্রবেরি
দামের চেয়ে দুষ্প্রাপ্যতা বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কণ্ঠেও উদ্বেগ
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রতিষ্ঠান অর্লিনস লেদারস অ্যান্ড ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাহমিনা আক্তার শাম্মী জাগো নিউজকে বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে এসএমই খাতে বিশাল বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের ব্যবসায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে বিক্রি কমে যাওয়া। আগে সন্ধ্যার পর, বিশেষ করে ৬টার পরে আমাদের বেশি বিক্রি হতো। কিন্তু এখন দোকান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে, ফলে আয় অনেক কমে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের হাজারীবাগ ও লেক সিটির শোরুম- দুই জায়গাতেই একই অবস্থা। সন্ধ্যা ৭টার পরে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছি। দোকান ভাড়া, স্টাফদের বেতন, ফ্যাক্টরি খরচ- সবকিছু চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

সরকারের নির্দেশ মেনে শপিংমল ও মার্কেট সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হলেও রাস্তার পাশের অনেক দোকান খোলা থাকছে, ছবি: জাগো নিউজ
ফ্যাশন হাউজের মালিক ও নেতারা যা বলছেন
পোশাক ব্র্যান্ড বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার সিদ্ধান্তে বৈশাখের ব্যবসায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বাস্তবতা হলো, মানুষ সাধারণত সন্ধ্যার পরই শপিংয়ে আসে। এখন সময় কমে যাওয়ায় ক্রেতারা ঠিকমতো মার্কেটে আসতে পারছেন না, ফলে আমাদের বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।’
‘আমরা চাই, সকালবেলার সময়টা যদি কম গুরুত্ব পায়, তাহলে দোকান খোলার সময় কিছুটা পিছিয়ে দিয়ে রাত পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক—ধরেন রাত ৯টা বা ১০টা পর্যন্ত। এতে অন্তত ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে এসে কেনাকাটা করতে পারবেন।’
বিপ্লব সাহা বলেন, ‘বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এই সময়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পণ্য-যেমন টেপা পুতুল, শখের হাড়ি, কুলা, বিভিন্ন কারুশিল্প—এসব সারা বছর বিক্রি হয় না, শুধু বৈশাখেই চাহিদা থাকে। এসব পণ্যের সঙ্গে গ্রামের অসংখ্য মানুষ জড়িত। তারা যদি এই সময় পণ্য বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে এবং দেনা-পাওনা শোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে।’
আরও পড়ুন
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে কমছে রপ্তানি আদেশ, বাড়ছে ব্যয়
দেশি পেট্রোল উৎপাদনেও লাগে বিদেশি অকটেন
আলু-পেঁয়াজের মাঠে ‘হাসি’, কৃষকের ঘরে ‘কান্না’
এখনই বড় পরিবর্তন নয়, জ্বালানি সাশ্রয়েই জোর সরকারের
‘এ বছর আমরা অনেক আশা নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বৈশাখের আগে কিছুটা সময় পেয়েছিলাম, তাই আয়োজনও ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সব আয়োজন কার্যত ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। দোকান খোলা না থাকলে বা সময় সীমিত থাকলে ব্যবসা কীভাবে চলবে? আমার কাছে বিষয়টা খুব সরল- এই কয়েকটা দিন মার্কেট খোলা রেখে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হোক। এরপর চাইলে ১৫ এপ্রিলের পর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আগে আমাদের বাঁচতে দিতে হবে, তারপর অন্য বিষয় চিন্তা করা যাবে।’ বলছিলেন বিপ্লব সাহা।
ফ্যাশন হাউস ‘সাদাকালো’র অন্যতম উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি আজহারুল হক আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘মার্কেট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্তে ব্যবসায় তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি, বরং পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই বলেছি-সময়টা পুনর্বিন্যাস করা দরকার। সকাল ১০টা থেকে খোলার বদলে দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখলে বেশি কার্যকর হতো। কারণ বাস্তবতা হলো, দিনে যেখানে ৪০ শতাংশ ক্রেতা আসে, সেখানে সন্ধ্যার পর আসে প্রায় ৬০ শতাংশ। এখন সময় সীমিত থাকায় আমাদের বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে।’

সরকারের নির্দেশ মেনে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মার্কেট, ছবি: জাগো নিউজ
আজহারুল হক আজাদ বলেন, ‘এটি নিয়মিত ব্যবসার জন্য বড় ধরনের আঘাত। এর সঙ্গে সামনে বৈশাখ থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সাধারণত এ সময় বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাজারে ব্যাপক কেনাকাটা শুরু হয়, কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জ্বালানি সংকটসহ সার্বিক পরিস্থিতির কারণে মানুষ কিছুটা দ্বিধায় রয়েছে- বৈশাখ কীভাবে উদযাপিত হবে, সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে।’
আজহারুল হক আজাদ আরও বলেন, ‘সময় কমে যাওয়ার প্রভাবও পড়ছে। বৈশাখ মানেই উৎসব, অনুষ্ঠান- তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আয়োজন কতটা হবে, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্রেতারা এখনো পুরোপুরি বাজারমুখী হচ্ছেন না। যদিও এবার ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি আগের কয়েক বছরের তুলনায় ভালো ছিল। কারণ গত কয়েক বছর বৈশাখ ঈদের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আলাদা করে প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না। কিন্তু এবার ঈদের পর ১০ থেকে ১৫ দিনের একটি সময় পাওয়া গিয়েছিল, তাই সবাই বেশি করে প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রস্তুতির সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে আমরা এখনো সংশয়ে আছি। এ অবস্থায় আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে, সকালের সময় কমিয়ে দিয়ে মার্কেট অন্তত রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক। তাহলে অন্তত ব্যবসা কিছুটা সচল রাখা সম্ভব হবে।’

সরকারের নির্দেশ মেনে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মার্কেট, ছবি: জাগো নিউজ
রাত ৯টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর দাবি
সারাদেশে দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি বলছে, তারা দুপুর ১২টায় দোকান-শপিংমল খুলে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চান। একই দাবি রয়েছে অন্যান্য সংগঠনগুলোরও।

সরকারের নির্দেশ মেনে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মার্কেট, ছবি: জাগো নিউজ
জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক বেচাকেনা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। কারণ আমাদের অধিকাংশ কাস্টমারই সন্ধ্যার পর আসেন, এটা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বাস্তবতা, যা হঠাৎ করে বন্ধ করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় আমরা বিকল্প হিসেবে কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। যেমন- সকালবেলা দোকান খুলে রাতে পর্যন্ত চালু রাখা, অথবা প্রয়োজনে দুপুর থেকে কার্যক্রম শুরু করা, যে কোনো সমন্বিত সমাধানে আমরা রাজি আছি, যদি এতে ব্যবসা কিছুটা টিকে থাকে।’
দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির এই নেতা আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, আয় কমলেও খরচ একটুও কমেনি। আমাদের দোকান ভাড়া দিতে হচ্ছে, সার্ভিস চার্জ দিতে হচ্ছে, স্টাফদের বেতন দিতে হচ্ছে। দোকান মালিকরা তাদের ভাড়া ঠিকই নিচ্ছেন, কিন্তু যারা ব্যবসা পরিচালনা করছি, আমরা কোথায় যাবো? মাস শেষে এসব খরচ তো আমাদের দিতেই হবে। এক মাস যদি আমাদের আয় না থাকে, তাহলে আমরা সেই পুঁজি পাবো কোথায়? ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে ফেলেছেন। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর সমাধান না এলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।’
ইএইচটি/এমএমএআর