ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

যে পিল খেয়ে বায়ুত্যাগ করলে গোলাপের সুবাস বের হবে

ফিচার ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:২৩ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

সেই আদিম যুগ থেকেই মানুষ মেতে ছিল আবিষ্কারের নেশায়। কখনো প্রয়োজনে, কখনো উন্নত জীবনের আশায় মানুষের কঠোর পরিশ্রম অসংখ্য নতুন আবিষ্কার জন্ম দিয়েছে। তবে সব আবিষ্কারই উদ্দেশ্যযুক্ত ছিল না। কিছু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে মজাদার বা উদ্ভট ঘটনা, যা কেউ কল্পনাও করতে পারত না।

সম্প্রতি এমনই এক অভিনব আবিষ্কার এই উত্তরাধিকারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্রিশ্চিয়ান পঁয়েশ্যেভাল ৬৫ বছর বয়সী ফরাসি বিজ্ঞানী। এমন একটি পিল উদ্ভাবন করেছেন যা খাওয়ার পর বায়ুত্যাগ করলে দুর্গন্ধের বদলে চকলেটের সুবাস ছড়িয়ে দেয়।

cfrt

পঁয়েশ্যেভাল ফ্রান্সের ছোট গ্রাম ঝেভ্রসের বাসিন্দা। অপ্রচলিত সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা তার জীবনের স্বভাব। স্থানীয়রা তাকে মজার ছলে ‘সান্তা ক্লজের ছোট হিপি ভাই’ বলে ডাকে।

২০০৬ সালে বন্ধুদের সঙ্গে এক নৈশভোজে অংশগ্রহণের সময় এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা তাকে বায়ুত্যাগ বিষয়ক গবেষণার পথে নামতে প্রেরণা দেয়। তার নিজের ভাষায়, ‘আমাদের বায়ুত্যাগ এত দুর্গন্ধযুক্ত হয়েছিল যে আমরা প্রায়ই নিজেই বিরক্ত হয়েছিলাম। আমার পাশে বসা বন্ধুরাও আমার কারণে বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তখনই ভাবলাম আমাকে কিছু করতে হবে।’

ওই ঘটনার পরেই তিনি গবেষণার পথে নামেন এবং এক অভিনব আবিষ্কার করে ফেলেন। বায়ুত্যাগজনিত দুর্গন্ধ দূর করতে তিনি চকোলেটের মতো সুগন্ধযুক্ত বড়ি আবিষ্কার করেন। তবে এটিই তার একমাত্র আবিষ্কার নয়। এর আগে তিনি এমন ওষুধও তৈরি করেছেন, যা বায়ুত্যাগে গোলাপ এবং ভায়োলেট ফুলের সুবাস প্রদান করে। এছাড়া তিনি পোষ্য প্রাণীর জন্যও বায়ুত্যাগজনিত দুর্গন্ধ কমানোর পাউডার তৈরি করেছেন।

dftg

তার তৈরি সব পিল প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি, কোনো রাসায়নিক নয়, এবং সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কমাতে সাহায্য করে।

পঁয়েশ্যেভাল খাদ্যাভ্যাস এবং বায়ুত্যাগের দুর্গন্ধের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন নিরামিষভোজী ছিলাম, তখন আমার বায়ু শাকসবজির গন্ধের মতো হতো, যা গরুর গোবরের গন্ধের সঙ্গে মিল রয়েছে। কিন্তু মাংস খাওয়ার পরে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।’

dftg

পিলের উপাদানগুলোর মধ্যে আছে উদ্ভিদজাত কাঠকয়লা, মৌরি, সামুদ্রিক শৈবাল, উদ্ভিদ রজন, বিলবেরি এবং কোকো ফলের নির্যাস। এগুলো শুধু দুর্গন্ধ আড়াল করে না, অন্ত্রে সৃষ্ট গ্যাস ও পেট ফোলাও কমায়।

এসব ওষুধ এক ভিন্ন গোত্রের বাজার তৈরি করেছে। বিশেষ করে উৎসব ও ছুটির মৌসুমে এগুলো খুবই জনপ্রিয়। অনেকেই

পেট ফোলার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ নিয়মিত সেবন করেন। আবার কেউ কেউ বন্ধুদের উপহার হিসেবে দেন। ছোটখাটো এই উদ্ভাবন জীবনকে মজার ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার পাশাপাশি দৈনন্দিন সমস্যার নতুন সমাধানও প্রদান করেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন:
যেখানে মৃতদের কাঁধে তুলে নাচা হয় 
স্পেনের হবু রানি লিওনর সম্পর্কে কতটা জানেন? 

এসএকেওয়াই/

আরও পড়ুন