ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন, যেসব বিষয় জেনে রাখুন

ফিচার ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:৪৩ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া মানে শুধু নিজের মতামত প্রকাশ করা নয়, এটি দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার একটি বিশেষ সুযোগ। ভোটারের মধ্যে অনেকেই প্রথমবারের মতো ভোটাররা, যারা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তাদের ছাপ ফেলতে প্রস্তুত। এই মুহূর্তটি কেবল ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, এটি দেশের নাগরিক হিসেবে আপনার অধিকারকেও প্রমাণ করে। তবে আগে থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা থাকলে ভোট দেওয়া সহজ হবে। 

ভোটার কার্ড নিশ্চিত করুন
ভোট দিতে গেলে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার ভোটার আইডি কার্ড আছে। ভোটার হিসেবে নাম তালিকায় থাকা এবং ভোটারের পরিচয়পত্র সঙ্গে থাকা অপরিহার্য। ভোটার তালিকা কোথায় পাওয়া যায়।

প্রার্থীদের প্রোগ্রাম ও পরিকল্পনা বোঝা
ভোট দেওয়ার আগে প্রার্থীদের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বোঝা খুব জরুরি। শুধু জনপ্রিয়তা বা নামের জন্য নয়, প্রার্থী ও দলের কার্যক্রম, নীতিমালা এবং অতীতের কাজের রেকর্ড যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন। নিউজ, সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার তথ্য যাচাই করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

ভোট দিতে যা লাগবে
বেশি কিছু প্রয়োজন নেই-জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার স্লিপ যথেষ্ট। নিজের ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা জানা থাকলে সহজ হবে। স্মার্টফোন, বড় ব্যাগ বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস না নেওয়াই ভালো।

ভোটের দিন পরিকল্পনা
ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, ভোটের সময় এবং প্রয়োজনীয় নথি আগে থেকে জানা থাকলে চাপ কমে। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের নিয়মও জানা থাকা ভালো-কোনো ধরনের ব্যাগ বা ফোন নেওয়া যাবে, লাইনে কীভাবে ধৈর্য ধরে দাঁড়াতে হবে ইত্যাদি।

সেলফি  না তোলা 
সেলফি ভোট দিয়ে বের হওয়ার পরে তুলতে পারবেন। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ছবি তোলা, ভিডিও করা কিংবা চেক-ইন দেয়া যাবে না। ভোটকেন্দ্রে ফোন না নিয়েই যাওয়া উচিত। যদি একান্ত নিতেই হয়, ভোটকেন্দ্রে ঢোকার সময় সেটি বন্ধ রাখতে রাখুন।

ভোটকেন্দ্রের অবস্থান
ভোট দেওয়ার আগে নিজের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র কোথায়-তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা স্থানীয় নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে খুব সহজেই এ তথ্য জানা যায়। ভোটকেন্দ্রের সঠিক ঠিকানা, সময়সূচী এবং আশপাশের অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা থাকলে অপ্রয়োজনীয় দেরি বা ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
ভোটের দিন যাতে তাড়াহুড়া বা বিভ্রান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য আগেভাগেই যাতায়াতের পরিকল্পনা করে রাখা ভালো। এতে সময় বাঁচবে, চাপ কমবে এবং আপনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আপনার নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

যাচাই করা
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে, তা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। ভোটার নিবন্ধন থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার ধাপগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে বিভ্রান্তি কমে যায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। কোথায় নিবন্ধন করতে হয়, কীভাবে নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ভোটের দিন কী কী ধাপ অনুসরণ করতে হয়-এসব আগেই জেনে রাখা উচিত।

ভোটকেন্দ্রের পদ্ধতি
ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর প্রথমেই নির্বাচনকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। নির্বাচনী কর্মকর্তারা পরিচয় যাচাই করবেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। এরপর আপনি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বা ব্যালট ইউনিটের সামনে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের পাশে বোতাম চাপবেন বা সিল দেবেন। ভোট দেওয়ার সময় গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ-এটি আপনার অধিকারও বটে।

একজন নাগরিক হিসেবে আপনার ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা। গোপন ব্যালটের অধিকার আপনার-আপনি কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। ভোট মানে শুধু একটা কাগজে সিল মারা নয়। ভোট মানে নিজের মত প্রকাশ করা, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। সচেতনতা ও প্রস্তুতিই পারে আপনার প্রথম ভোটদানের অভিজ্ঞতাকেঅর্থবহ করে তুলবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা, বাংলাদেশ নিবার্চন কমিশন,টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:
জালভোট দেওয়ার শাস্তি কী জানেন? 
বিশ্বের কোন দেশে ভোটিং পদ্ধতি কেমন

এসএকেওয়াই/

আরও পড়ুন