যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব আছে
ভিটামিন ডি—নামটা শুনলেই অনেকের মাথায় আগে আসে রোদ। কিন্তু আধুনিক জীবনযাপনে রোদে বের হওয়া কমে যাওয়ায় এই ভিটামিনের ঘাটতি এখন শহর-গ্রাম সবার মধ্যেই খুব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতকালে তা আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়; পেশি, স্নায়ু, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এমনকি মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই শরীরে ভিটামিন ডি কমে গেলে কিছু লক্ষণ আগেভাগেই সংকেত দিতে শুরু করে, যেগুলো আমরা অনেক সময় অবহেলা করি। জেনে নিন লক্ষণগুলো -
১. হাড়ের ব্যথা
ভিটামিন ডি-এর অভাবের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো হাড় ও জোড়ার ব্যথা। বিশেষ করে কোমর, হাঁটু বা পিঠে অকারণ ব্যথা হলে অনেকেই এটাকে বয়সজনিত সমস্যা বা কাজের চাপ বলে ধরে নেন। অথচ দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি কম থাকলে হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণ ব্যাহত হয়, ফলে হাড় দুর্বল হয়ে ব্যথা শুরু হয়।
২. ক্লান্তি ও ঝিমুনি
সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া বা সারাদিন ঝিমুনি ভাব থাকাও ভিটামিন ডি ঘাটতির একটি সাধারণ লক্ষণ। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি শরীর চাঙ্গা না লাগে, তাহলে এর পেছনে ভিটামিন ডি কম থাকাও কারণ হতে পারে। কারণ এই ভিটামিন পেশির শক্তি ও এনার্জি মেটাবলিজমে ভূমিকা রাখে।

৩. দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষতা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া। সর্দি-কাশি, জ্বর বা সংক্রমণ ঘন ঘন হলে বুঝতে হবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে। ভিটামিন ডি ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। এর অভাবে শরীর সহজেই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার কাছে হার মানে।
৪. পেশিতে টান ধরা
অনেকের ক্ষেত্রে পেশিতে টান ধরা, দুর্বলতা বা হঠাৎ ব্যথা অনুভূত হয়। সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া, অল্প কাজেই পেশি ব্যথা — এসবও ভিটামিন ডি কম থাকার লক্ষণ হতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

৫. চুল পড়া
চুল পড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং ক্ষত সারতে দেরি হওয়াও ভিটামিন ডি ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ভিটামিন কোষের পুনর্গঠন ও ত্বকের সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। তাই দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে ত্বক ও চুলে তার প্রভাব পড়তে পারে।
৬. মানসিক অবসাদ
মানসিক দিক থেকেও ভিটামিন ডি-এর প্রভাব আছে। মন খারাপ থাকা, হতাশা, আগ্রহ কমে যাওয়া — এসব উপসর্গ অনেক সময় ভিটামিন ডি ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি মস্তিষ্কে ‘মুড রেগুলেটিং’ হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — এই লক্ষণগুলো একেকজনের ক্ষেত্রে একেকভাবে দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন এমন উপসর্গ থাকলে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জানা জরুরি। সময়মতো ঘাটতি ধরা পড়লে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, রোদে থাকা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (এনআইএইচ), মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ
এএমপি/জেআইএম