আমলকী খেতে সতর্ক হবেন যারা
আমলকীকে বলা হয় ভিটামিন সি-এর প্রাকৃতিক ভাণ্ডার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, ত্বক ও চুল ভালো রাখা থেকে শুরু করে হজমে সাহায্য - সব মিলিয়ে আমলকী বেশ উপকারী একটি ফল।
কিন্তু সব উপকারী খাবারই সবার জন্য সমান নিরাপদ নয়। কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে আমলকী খাওয়া উল্টো শরীরের জন্য অস্বস্তিকর বা ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নিয়মিত আমলকী খাওয়ার আগে এই বিষয়গুলো জানা জরুরি।
১. গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা পেপটিক আলসার
প্রথমেই যাদের গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা পেপটিক আলসারের সমস্যা আছে, তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। আমলকীতে ভিটামিন সি ও প্রাকৃতিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি। খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকী খেলে পেটে জ্বালা, বুকজ্বালা, অ্যাসিডিটি বা ব্যথা বাড়তে পারে।
২. কিডনির সমস্যা
যাদের কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি আছে, তাদের ক্ষেত্রেও আমলকী সীমিত রাখা ভালো। আমলকীতে থাকা অক্সালেট জাতীয় উপাদান অতিরিক্ত গ্রহণ করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই এই সমস্যা আছে।
৩. ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আমলকী সাধারণত উপকারী হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে বা আমলকীর আচার, মোরব্বা ও মিষ্টি জুস আকারে খেলে সমস্যা হতে পারে। এসব প্রক্রিয়াজাত আমলকীতে চিনি ও লবণ বেশি থাকায় রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
৪. নিম্ন রক্তচাপ
যাদের লো ব্লাড প্রেসার (নিম্ন রক্তচাপ) থাকে, তাদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। আমলকী রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভব হতে পারে।
৫. অ্যানিমিয়া
এ ছাড়া অ্যানিমিয়া বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে আমলকী খাওয়ার সময়ের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। আমলকী আয়রন শোষণে সাহায্য করলেও একই সঙ্গে যদি আয়রন সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে অতিরিক্ত আমলকী খাওয়া হয়, তাহলে কারও কারও ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
অর্থাৎ, আমলকী স্বাস্থ্যকর হলেও এটি ওষুধ নয়। প্রতিদিন ১–২টি কাঁচা আমলকী বা পরিমিত পরিমাণে আমলকীর রস বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ। তবে গ্যাস্ট্রিক, কিডনি, রক্তচাপ বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ থাকলে নিয়মিত আমলকী খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন, হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ
এএমপি/জেআইএম