ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

গর্ভবতী নারীর পুষ্টির ঘাটতি হলে শিশু কীভাবে পুষ্টি পায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গর্ভাবস্থায় অনেকেই খাবারের খেয়াল রাখেন ক্রেভিংস বা বিচিত্র খাবার খেতে ইচ্ছা করার ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু বাস্তবে গর্ভাবস্থায় পুষ্টির আসল গল্পটি আরও গভীর। কিন্তু পুষ্টির অভাব হলে কী ঘটে?

মায়ের খাদ্যে ক্যালসিয়াম বা প্রোটিন কম হলে কি শিশুর বৃদ্ধি থেমে যায়? নাকি মায়ের শরীর নিজেই ব্যবস্থা নেয়?

সত্যতা কতটা?

বিজ্ঞান বলছে, মানবদেহে এমন অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা আছে যা ভ্রূণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়। তবে কিছু বিষয় মানুষ একটু বাড়িয়েই বলে। যেমন - ১০ শতাংশের বেশি স্থায়ী হাড়ক্ষয় - এটি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিষয়টি ব্যক্তিভেদে আলাদা।

মায়ের হাড় থেকে আসে ক্যালসিয়াম

গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের হাড় ও দাঁতের গঠনে ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। তাই খাদ্যে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না থাকলে শরীর হরমোনাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মায়ের হাড়ের ক্যালসিয়াম ভেঙে রক্তে ছাড়তে পারে। এ কারণে গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে অস্থি খনিজ ঘনত্ব সাময়িকভাবে কমতে পারে।

তবে গবেষণা বলছে, অধিকাংশ সুস্থ নারীর ক্ষেত্রে এই হাড়ক্ষয় প্রসবের পর ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হয়, বিশেষত পুষ্টি ও জীবনযাপন ঠিক থাকলে। কিন্তু বারবার গর্ভধারণ, পুষ্টিহীনতা বা ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডি ঘাটতি থাকলে দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের স্বাস্থ্যে চাপ পড়তে পারে।

গর্ভবতী নারীর পুষ্টির ঘাটতি হলে শিশু কীভাবে পুষ্টি পায়

প্রোটিন কি পেশি ভেঙে তৈরি হয়?

ভ্রূণের কোষবৃদ্ধি, অঙ্গগঠন ও প্লাসেন্টা তৈরিতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যে যদি সেই প্রোটিন যথেষ্ট না থাকে, মায়ের শরীর তখন নিজের পেশি-টিস্যু ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করতে পারে। এটি ভ্রুণের বেঁচে থাকার একটি কৌশল। তবে স্বল্পমেয়াদি, মৃদু ঘাটতি ও দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টি এক জিনিস নয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রোটিন ঘাটতি মায়ের দুর্বলতা, রক্তাল্পতা ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

এগুলো মানুষের শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন। গর্ভকালে হরমোনের যে পরিবর্তন হয়, তা সবসময় ভ্রূণের পুষ্টিকে আগ্রাধিকার দেয়। একই সঙ্গে মায়ের শরীরে খনিজ সঞ্চয়ের ধরনও সাময়িকভাবে বদলে যায়। অর্থাৎ গর্ভধারণ কেবল সৃষ্টি নয়, এটি এক ধরনের পুষ্টির পুনর্বণ্টন।

তাহলে ঝুঁকি কোথায়?

>> বারবার গর্ভধারণ ও পর্যাপ্ত বিরতি না থাকলে

>> ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিনের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি থাকলে

>> অ্যানিমিয়া, কম ওজন বা উচ্চ ঝুঁকির গর্ভাবস্থা থাকলে

এসব ক্ষেত্রে মায়ের হাড় ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

গর্ভাবস্থা এক গভীর জৈবিক বিনিয়োগ। মায়ের শরীর নীরবে অনেক কিছু দেয় - তবে সেই দেওয়ার প্রক্রিয়া টেকসই রাখতে প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি ও পরবর্তী যত্ন। সুস্থ মা মানেই সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ

এএমপি/এএসএম

আরও পড়ুন