হঠাৎ বেশি মাংস খেলে শরীরে কি সমস্যা হতে পারে?
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো
ঈদ কিংবা বিশেষ কোনো উৎসবে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই মাংসের নানা পদ থাকে। অধিকাংশ মানুষ এই সুস্বাদু খাবারগুলো খুব পছন্দ করেন। তবে অনেকেই উৎসাহে একটু বেশি খেয়ে ফেলেন। দীর্ঘদিন ধরে লাল মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সবাই জানলেও হঠাৎ একবার বেশি মাংস খাওয়ার পর শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা কম মানুষই জানেন। এই বিষয়ে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
মাংস হজম হতে কিছুটা সময় নেয়। বিশেষ করে যদি মাংস বেশি তেল, মসলা বা চর্বি নিয়ে রান্না করা হয়, তখন হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়। এই সময় শরীরের বিপাক দ্রুত তাপ উৎপন্ন করে। তাই হঠাৎ শরীরে গরম লাগা বা ঘাম আসা অস্বাভাবিক নয়। অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর শরীর ভারী অনুভূত হতে পারে। কখনও কখনও অল্প সময়ের জন্য অলসতা বা শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতিও হতে পারে।
মাংস বা চর্বিযুক্ত রান্নার খাবার খাওয়ার পর গলা শুকিয়ে যাওয়াও স্বাভাবিক। এতে বেশি পানি খেতে হতে পারে। মাংসের বিভিন্ন পদ এই ধরনের রান্নার মাধ্যমে তৈরি হয়, তাই অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভব হওয়া স্বাভাবিক।
শারীরিক সমস্যার সম্ভাবনা
অ্যালার্জি: মাংস বা মাংসের পদে থাকা কোনো উপাদান থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। যেমন, বিরিয়ানিতে থাকা দুধ, রোস্টে থাকা টক দই বা হালিমের বিভিন্ন উপাদান। অ্যালার্জি হলে চুলকানি, ফুসকুড়ি, মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া, পেটব্যথা, বমি বা পাতলা পায়খানা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে।
ল্যাকটোজ সংক্রান্ত সমস্যা: যাদের দুধ বা দুধজাত খাবার হজম করতে সমস্যা হয়, তাদের মাংসের পদে দুধ বা দই থাকলে পেটব্যথা, বমি বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন:
- সংযম শেষে হঠাৎ খাবার খেলেই বিপদ
- গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ঈদ সতর্কতা
- ভ্রমণে দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের যেসব নিয়ম মানা জরুরি
অতিরিক্ত খাওয়ার প্রভাব: যদি বেশি পরিমাণ মাংস খাওয়া হয়, পেট ভারি লাগা, ঢেকুর ওঠা, অতিরিক্ত গ্যাস, টক স্বাদ বা অ্যালসেমি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের অ্যাসিডিটির প্রবণতা বেশি, তারা বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন।
হজমজনিত সমস্যা: মাংস সঠিকভাবে না হজম হলে বমি বা পাতলা পায়খানা হতে পারে। খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত আঁশ না থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাযুক্তদের ক্ষেত্রে গরুর মাংসের প্রভাব আরও বেশি হতে পারে।
জীবাণু সংক্রমণ: অর্ধসেদ্ধ মাংস বা বাসি মাংস খেলে জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে কাবাবজাতীয় পদ পুরোপুরি সেদ্ধ না হলে বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে।
মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
- অ্যালার্জি থাকা ব্যক্তিদের মাংস এড়িয়ে চলা উচিত
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল সমস্যা থাকলে লাল মাংস পরিমিতি মাত্রায় খাওয়া উচিত।
- চর্বিযুক্ত অংশ যেমন মাথা, মগজ, মজ্জা, পায়া, কলিজা এড়িয়ে রান্না করা ভালো।
- কিডনির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থাকলে প্রতিদিন কতটা মাংস খাওয়া যাবে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
- ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে মাংস ও কলিজা সীমিতভাবে খাওয়া উচিত।
- অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ থাকলে মাংস এড়িয়ে চলতে হবে।
সবার জন্য সাধারণ পরামর্শ
- উৎসব বা বাড়িতে মাংস খাওয়ার সময় সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন।
- মাংসের সঙ্গে সবজি ও সালাদ রাখুন, হজম সহজ হয় এবং আঁশও পাওয়া যায়।
- মাংস ভালোভাবে সেদ্ধ করুন; অর্ধসেদ্ধ মাংস এড়িয়ে চলুন।
- রান্না ও পরিবেশনের সময় হাত পরিষ্কার রাখুন; নখ ছোট রাখাই ভালো।
- প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন
- মুরগি রান্না করলে চামড়া ফেলে রান্না করুন
- খাবারের সঙ্গে সঙ্গে পানি না খেয়ে ১৫–২০ মিনিট পর পান করুন, এতে হজম সহজ হয়।
জেএস/