পেট সুস্থ রাখতে ভাগ্যশ্রীর পছন্দ বিশেষ রায়তা
অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী, ছবি: ফেসবুক থেকে
গরমে পেটের গোলমাল, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা এই অভিযোগগুলো অনেকেরই চেনা। আর ঠিক এমন সময়েই একেবারে ঘরোয়া অথচ একটু ভিন্ন স্বাদের একটি খাবারের কথা বললেন অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী। বলিউডের আলোঝলমলে জীবন থেকে অনেক দূরে থাকলেও, ৫৬ বছর বয়সেও তার ফিটনেস আর স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই ভক্তদের। সেই রহস্যের এক অংশ নাকি লুকিয়ে আছে তার পছন্দের বিশেষ এক রায়তায়।
ভাগ্যশ্রীর মতে, গরমের দিনে পেট ঠান্ডা রাখতে ও হজমশক্তি ঠিক রাখতে তিনি নিয়মিত খান কুমড়ো দিয়ে তৈরি রায়তা। এই রায়তায় থাকে টক দইয়ের সঙ্গে সেদ্ধ কুমড়ো, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও লবণ। উপরে ফোড়ন হিসেবে সর্ষের তেলে দেওয়া হয় হিং, কারিপাতা আর কসৌরি মেথি। তার দাবি, এই খাবার শুধু পেট ভরায় না, অন্ত্রের স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে।
কিন্তু বাস্তবেই কি এতটা উপকারী এই রায়তা? ভারতীয় পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তীর মতে, ভাগ্যশ্রীর দাবি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। টক দই প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ হওয়ায় হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। পাশাপাশি এতে ক্যালশিয়াম ও প্রোটিনও পাওয়া যায়। কুমড়ো কম ক্যালোরির হলেও ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও জিঙ্কের ভালো উৎস।
ছবি: ভারতীয় পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী
রায়তার অন্যান্য উপকরণও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। পেঁয়াজে থাকা কোয়ারসেটিন নামের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের প্রদাহ ও স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। কাঁচামরিচের ভিটামিন সি হজম প্রক্রিয়াকে চাঙ্গা করে। ফোড়নে ব্যবহৃত কারিপাতা ও হিং দুটিই পরিচিত হজম সহায়ক হিসেবে। আর কসৌরি মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন:
সব মিলিয়ে এই রায়তা শুধু পেটের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে শরীর ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে সবাইকে কুমড়ো দিয়েই রায়তা বানাতে হবে, এমন নয়। শসা বা গাজরের মতো অন্য সবজিও যোগ করা যায়। যদিও দই যাদের সহ্য হয় না বা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে পেঁয়াজ বা দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এ ছাড়া বিশেষ কোনো বাধা না থাকলে, গরমের দিনে হালকা ও উপকারী খাবার হিসেবে রায়তা রাখা যেতেই পারে পাতে।
জেএস/